#সিলেট বিভাগ

সিলেটের ১১৪টি পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা।

সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটে জ্বালানি তেলের সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে।সিলেটের ফিল্ডগুলোতে তেল উত্তোলন বন্ধ থাকায় এবং পরিবহন সমস্যার কারণে এ সঙ্কট বাড়ছে। ফলে বিভাগের ১১৪টি পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সঙ্কট নিরসনে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।এমতাবস্থায় আন্দোলনে নেমেছেন সংশ্লিষ্টরা।বুধবার নগরীতে ট্যাংকলরি নিয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী এবং এর সঙ্গে জড়িত পাঁচ সংগঠন।

সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সরবরাহ আছে মাত্র ৩ থেকে সোয়া ৩ লাখ লিটার। এই তেল সিলেটের ৪টি ডিপোর মধ্যে ভাগ করে নেন ব্যবসায়ীরা। তবে কোনো কোম্পানিই তাদের গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে পারে না।

সিলেটের পেট্রলপাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল আসে চট্টগ্রাম থেকে। ফলে তেলের সরবরাহ নির্ভর করে রেলের ওয়াগনের ওপর। তাই রেল বিভাগের উদাসীনতা তেলসঙ্কটের অন্যতম কারণ বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টিসহ জেলায় ৭০টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা প্রতিদিন ১০ লাখ লিটারেরও বেশি। কিন্তু বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার জ্বালানি তেল আসছে। সিলেটে জ্বালানি তেল আসে চট্টগ্রাম থেকে ওয়াগনে করে। তাই ওয়াগন সংকটে পাম্পগুলোকে প্রায় এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়।

জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এক বছর আগেও সিলেটের গ্যাসফিল্ডসমূহের খনি থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা হতো। সে সময় সিলেটে কখনো জ্বালানি তেলের সঙ্কট দেখা দেয়নি। কিন্তু ১ বছরের বেশি সময় ধরে সিলেট গ্যাসফিল্ড থেকে পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সিলেটের পাম্পমালিকদের ওয়াগনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

নগরীর উত্তরা পেট্রোলিয়ামের পরিচালক ও ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল হোসেন আহমদ আলমগীর বলেন, ‘আমরা সিলেট বিভাগের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চরম সংকটে আছি। অকটেন আছে তো পেট্রল নেই, পেট্রল আছে তো ডিজেল নেই। এটা সিলেটের সব পাম্পে একই সমস্যা। এ জন্য আমাদের পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছি না। পাশাপাশি গ্যাসের লোড কম থাকা, সিএনজি পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সিএনজি পাম্পমালিকেরাও আছেন সংকটে।’

সিরাজুল হোসেন আরও বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে সিলেটের গ্যাসফিল্ড থেকে পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। তাই আমরা বাধ্য হয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছি। তেমনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিকেরা। কারণ, গাড়ির চাকা না ঘুরলে তাঁদের আয় বন্ধ। ফলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবহনশ্রমিকেরা।

এদিকে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সিএনজি পাম্পমালিকেরাও আছেন সংকটে। গ্যাসের লোড কম থাকা, সিএনজি পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছেন পাম্পমালিকেরা। পাশাপাশি সিলেটের গ্যাসফিল্ড থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ করায় বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিকেরাও পড়েছেন বিপাকে।

তাই জ্বালানি সঙ্কটে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস-ডিস্ট্রিবিউটরস-এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ এলপিজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি এবং সিলেট বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ‘সিলেট বিভাগীয় পেট্রলপাম্প, সিএনজি, এলপিজি, ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’।

সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান এক মতবিনিময় সভা করেন। ওই সভায় এক সপ্তাহের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন তেল ব্যবসায়ীরা। এ সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। এ সময় দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কোনো সমাধান না হওয়ায় এবার আন্দোলনে নেমেছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *