#দেশের খবর

বাড়ানো হচ্ছে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল।

বেসরকারি দুটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এজন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালকেই মূল হাব হিসেবে ব্যবহার করছে এয়ারলাইনসগুলো। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বহির্গমন যাত্রীদের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ রয়েছে, তাতে একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রী প্রবেশ করলেই সৃষ্টি হচ্ছে স্থান সংকুলান নিয়ে সংকট। অন্যদিকে আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে আরো দুটি বেসরকারি এয়ারলাইনস অভ্যন্তরীণ রুটে কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অবস্থা যাত্রীসেবা বাড়াতে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের পরিধি আরো আট হাজার বর্গফুট বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক সূত্র বলছে, কয়েক বছর ধরেই দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যাত্রী বাড়ছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মাঝে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে কার্যক্রমে আসছে আরো দুই বেসরকারি এয়ারলাইনস। এতে করে অচিরেই শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমান অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে যাত্রীদের স্থান সংকুলান করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের যাত্রী চাপ সামাল দিতে বর্তমান অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনের ওপর আট হাজার বর্গফুটের আরো একটি বহির্গমন লাউঞ্জ নির্মাণের প্রকল্প শুরু করেছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। বেবিচকের ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রীসেবা লাউঞ্জ স্থাপনের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া বহির্গমন লাউঞ্জে নতুন করে আট হাজার বর্গফুট জায়গা যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য যুক্ত হচ্ছে। যার অর্ধেক বরাদ্দ থাকবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য। সেখানে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, ধূমপান এলাকা, ডায়াপার চেঞ্জিং স্টেশন, মাদারস কর্নার ও প্রার্থনাকক্ষ থাকবে। প্রায় ৩০০ যাত্রী অপেক্ষা করতে পারবেন নতুন সংযুক্ত হতে যাওয়া ওই স্থানে। এছাড়া বাকি অর্ধেক জায়গায় স্থাপন করা হবে আন্তর্জাতিক মানের দুটি লাউঞ্জ।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালটি বহু আগের। এ কারণে সেখানে যাত্রীদের স্থান সংকুলান করতে সমস্যা হচ্ছে। আবার একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রী উপস্থিত হলে আসন সংকটে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। যাত্রী চাপ সামলাতে সম্প্রতি টার্মিনালের পাশে আরেকটি ফ্লোর নির্মাণ করা হয়। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে যাত্রী প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনের ওপর আট হাজার বর্গফুটের আরো একটি বহির্গমন লাউঞ্জ নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বেবিচকের ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হওয়ায় এ প্রকল্পে কোনো আর্থিক ব্যয় হচ্ছে না।

তিনি বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের সেবা বাড়াতে দেশের অন্য বিমানবন্দরগুলোতেও প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যার অংশ হিসেবে অচিরেই চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, বরিশাল, যশোর ও রাজশাহী বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসরকারি খাতের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও নভোএয়ার ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অন্যদিকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ফ্লাইট কার্যক্রমে আসার অপেক্ষায় রয়েছে এয়ার অ্যাসট্রা ও ফ্লাই ঢাকা। দুটি এয়ারলাইনসই বর্তমানে বেবিচকের এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট (এওসি) পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ছয় লাখ, যা কয়েক বছরের ব্যবধানে ২০১৭ সালে বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ১২ লাখে। তবে সবচেয়ে বেশি যাত্রী বাড়ে ২০১৯ সালে। ওই বছর অভ্যন্তরীণ যাত্রী পারাপারের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ২১ হাজার। তবে করোনার কারণে ২০২০ সালের বেশির ভাগ সময় আকাশপথ বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহন কমে যায়। যদিও কভিড পরিস্থিতি উন্নতির সঙ্গে গত বছর অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী চলাচল আবারো বাড়তে শুরু করে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *