#আন্তর্জাতিক

অং সান সু চি আবারো কারাগারে।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’কে আবারও কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি রাখাসহ একাধিক অভিযোগের মামলায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামরিক জান্তা-শাসিত মিয়ানমারের একটি আদালত আজ সোমবার সু চি’কে এই দণ্ড দেন। রায়ের বিষয়ে অবগত একটি সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

হাতে ব্যবহারের রেডিও (ওয়াকিটকি) অবৈধভাবে রেখে আমদানি-রপ্তানি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সু চি’কে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ সম্পর্কিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের আরেক অভিযোগে সু চি’কে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে জানিয়েছে সূত্র।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ৭৬ বছর বয়সী সু চির বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন মামলা আছে। এসব মামলায় তার মোট ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও সু চি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

উসকানি ও করোনভাইরাসের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের মামলায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সু চির চার বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে এই দণ্ড কমিয়ে দুই বছর করা হয়।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সু চি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। জান্তা শাসনের বিরোধিতা করার জন্য তাকে বছরের পর বছর গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে।

২০১০ সালে সু চি মুক্তি পান। ২০১৫ সালের নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয় পায়। তার দল সরকার গঠন করে।

২০২০ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে সু চির দল আবার বড় জয় পায়। কিন্তু দেশটির সেনাবাহিনী সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। এ অজুহাতে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক জান্তা সু চিসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে। দেশটিতে জারি করে জরুরি অবস্থা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *