আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেল কেরানীগঞ্জের লাল মসজিদ।
কেরানীগঞ্জের লাল মসজিদ নামে পরিচিত দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ আব্দুল লতিফ আল ফোজান পুরস্কার অর্জন করেছে। সারা বিশ্ব থেকে সাতটি মসজিদকে এ পুরস্কার দেয়া হয়, তার মধ্যে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বরের লাল মসজিদ অন্যতম। আল মদিনা আল মনোয়ারায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাওয়ার্ড ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রিন্স সুলতান বিন সালমান এবং মদিনা রিজিয়নের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন সালমান।
তিন মহাদেশ থেকে ৪৩টি দেশের মোট ২০১টি মসজিদ এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে ২৭টি মসজিদের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদকে (লাল মসজিদ) এ পুরস্কার দেয়া হলো।
লাল মসজিদসংলগ্ন পুরনো মসজিদটিও সম্প্রতি ‘ইউনেস্কো এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ড ২০২১ সাইকেল ফর কালচারাল হেরিটেজ কনজারভেশন’ পুরস্কার অর্জন করে এবং সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য স্থপতি সাঈদ মোস্তাক আহমেদ ‘দি অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ পুরস্কার অর্জন করেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরে ১৮৬৮ সালে পুরনো মসজিদটি নির্মিত হয়।
মিনারসহ মসজিদটির বর্ধিতাংশ নির্মাণ করেন নসরুল হামিদের বাবা অধ্যাপক হামিদুর রহমান। পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় আধুনিক একটি মসজিদ, যা লাল মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটিতে সূর্যের আলো অধিক ব্যবহূত হয় এবং এয়ার কন্ডিশনারের প্রয়োজন হয় না। স্থপতি কাশেফ চৌধুরীকে লাল মসজিদ নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়। মুসলিম বিশ্বে অনন্য মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নান্দনিক নিদর্শন হিসেবে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশের কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত লাল মসজিদ এবং এর স্থপতি কাশেফ চৌধুরী অর্জন করেছেন ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র।
মসজিদটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেই আধুনিকায়ন করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই আনন্দিত, এ মসজিদ দুটির সঙ্গে আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও আবেগ জড়িয়ে আছে ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে, যা এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছে একের পর এক।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা।





