#সিলেট বিভাগ

হারিছ চৌধুরী আর নেই।

সিলেট প্রতিনিধি:
চারদলীয় জোট সরকারের সময়কার দুর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন মাস আগে লন্ডনে তিনি মারা যান। পরিবারের সদস্যরা এতোদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। তবে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) আশিক চৌধুরী ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস দিলে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তার আপন চাচাতো ভাই সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

আশিক চৌধুরী তাঁর ফেসবু স্ট্যাটাসে লেখেন- ‘ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন’। নিজের ছবির সাথে হারিছ চৌধুরীর একটি ছবি যুক্ত করে তিনি এই স্ট্যাটাস দেন। এরপর স্ট্যাটাসের নিচে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন লিখে কমেন্ট করতে থাকেন। অনেকে হারিছ চৌধুরীকে নিয়ে আফসোসও করেন।

আশিক চৌধুরী জানান, গত বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাছি হারিছ চৌধুরী লন্ডনে করোনা আক্রান্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় ফিরেন। কয়েকদিন পর তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভও আসে। করোনার দখল সাময়িক কাটিয়ে ওঠলেও তার ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। ফুসফুসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত বছরের ৫ অক্টোবর হারিছ চৌধুরীর ছোট ভাই এমরান আহমদ চৌধুরী মারা যান। এর কয়েক দিন আগে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান মারা যান হারিছ চৌধুরী। হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর সংবাদ তার মেয়ে মুন্নু চৌধুরী ফোনে দেশে জানিয়েছেন বলে জানান আশিক চৌধুরী।

জানা গেছে, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে হারিছ চৌধুরী যুক্তরাজ্যে থাকতেন। তার ছেলে জনি চৌধুরী পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার। আর মেয়ে মুন্নু চৌধুরী ব্যারিস্টার। আগে থেকেই হারিছ চৌধুরী ব্ল্যাড ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একবার রক্ত পরিবর্তন করে আসেন। দেশ থেকে পালানোর পর তিনি যুক্তরাজ্যে আরেকবার রক্ত পরিবর্তন করেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, আক্রান্ত হওয়ার আগে হারিছ চৌধুরী করোনার দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। এরপরও তিনি আক্রান্ত হন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং পুরো ফুসফুস সংক্রমিত হয়ে পড়ে। ফলে করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও তিনি ফুসফুস জটিলতায় ভূগছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *