#সিলেট বিভাগ

হবিগঞ্জে শ্রেণিকক্ষেই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি।

সিলেট প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মুমিনুল হক নামের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ওই উপজেলার একটি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

বুধবার দুপুরে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়। এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক মুমিনুল হককে বহিষ্কার ও শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীর বাবা জেলা প্রশাসক ও লাখাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।

ছাত্রীর বাবা বলেন, আমি এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, কিছু একটা তো অবশ্যই হয়তো আছে। মেয়ে তো এমনি এমনিই অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্যে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে।

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শরীফ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে ইতোমধ্যে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টি আইনানুযায়ী চলবে।

ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষক মুমিনুল হক অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়ই ওই ছাত্রীর প্রতি কুনজর দেন। প্রায় সময়ই তিনি বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। তার শ্লীলতাহানি, যৌন হয়রানিরও চেষ্টা করেছেন একাধিকবার। এ কারণে ওই ছাত্রী মুমিনুলকে এড়িয়ে চলতেন।

বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারকে জানালে পরিবার তাকে নীরবে মোকাবেলা করার পরামর্শ দেয়। গত ১৬ মার্চ সকালে স্কুলের প্রাত্যহিক সমাবেশ (এসেম্বলি) শুরু হলে ওই ছাত্রী শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় এসেম্বলিতে না গিয়ে স্কুল ভবনের তৃতীয় তলায় শ্রেণিকক্ষে বসেছিলেন। সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল।

এ সময় সহকারী শিক্ষক মো. মুমিনুল হক গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। তিনি ওই ছাত্রীর কাছে গিয়ে অশ্লীল যৌন ইঙ্গিত প্রদর্শন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার হাতে ধরেন। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন এবং আয়া গৌড়ী সেখানে গেলে মুমিনুল হাত ছেড়ে দিয়ে নিচে নেমে পড়েন।

শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ও আয়া গৌড়ী নেমে পড়লে তিনি ফের গিয়ে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে জড়িয়ে ধরেন। তখন ওই ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে মুমিনুল হক তার মুখ চেপে ধরেন। তার চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল করিমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে মুমিনুল ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই ছাত্রী আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তার বাবা। বিষয়টি তাৎক্ষনিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ চৌধুরীকে জানানোর পরও তিনি মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত ও তার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ-লাখাই-সড়াইল-নাসিরনগর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শরীফ উদ্দিন। তিনি তাৎক্ষণিক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *