হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সুইট লেডি জাতের পেঁপের বানিজ্যিক চাষ!
এম হায়দার চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ):: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে প্রথমবারের মতো বানিজ্যিক ভাবে “সুইট লেডি পেপে” চাষ করে বাজিমাত করে সবার নজরে এসেছেন চাষি মিল্লাদ তালুকদার। নতুন জাত ও নতুন নামের এই পেপের সাথে অনেকেরই পরিচয় না থাকায় উপজেলার কৃষকদের কাছে সুইট লেডি পেঁপের প্রতি আলাদা মনযোগ পড়েছে। সুইট লেডি জাতের পেঁপের আশানুরূপ ফলনে অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তির হাসি ফুঁটে উঠেছে চাষি মিল্লাদ তালুকদারের ঠোটে। সে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভাধীন বিরামচর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক তালুকদারের ছেলে।
জানা যায়, মুদিমাল ব্যবসায়ী মিল্লাদ তালুকদার তার ব্যবসায় সুবিধা করতে না পেরে, পুঁজি হারিয়ে যখন বেকার হয়ে পড়েছিলেন তখন অনেকটা শখের বসেই তিনি কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। আর তাতেই সাফলতা পেয়ে যান। স্বলাপ সময়ের ব্যবধানে ব্যবসায়ী থেকে হয়ে যান সফল চাষি। মিল্লাদ সুইট লেডি জাতের ৩ শতাধিক পেঁপের চারা রংপুর থেকে সংগ্রহ করে নিজের ৩৬ শতক জমিতে রোপণ করেন। চারা রোপণের প্রায় তিন মাসের মধ্যেই প্রতিটি গাছে গড়ে ৩০টি করে পেঁপে ধরেছে। একেকটা পেঁপে ৫শ গ্রাম থেকে ৬শ গ্রাম ওজনের হয়েছে। নতুন নামের এই সুইট লেডি জাতের পেঁপে চাষ করে এলাকায় সবার দৃষ্টি কেড়েছেন মিল্লাদ। প্রতিদিন লোকজন আসছেন পেপে বাগান দেখতে। অনেকেই এখন এই নতুন জাতের ও নামের পেপে চাষ করার পরিকল্পনার করছেন।
এ ব্যাপারে আব্দুল গাফফার তালুকদার মিল্লাদ বলেন, তার পেঁপে বাগান করার জন্য বহু দিনের শখ ছিল। কিন্তু ব্যবসার ঝামেলায় এতোদিন বাগান করতে পারেননি। ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পরে তার বড় ভাই মাহমুদ কাদির তালুকদার বাচ্চু, মাসুদ তালুকদার ও আব্দুল জব্বার তালুকদার মুরাদের সহযোগীতায় পেপে চাষ শুরু করে প্রথমবারেই সফলতা পেয়ে যান। তিনি বলেন যে কেউ পেপের চাষ করে বেকারত্ব দুর করার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে পারবে। জমি তৈরি, চারা রোপন, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ইত্যাদি বাবদে শ্রমিকের মজুরীসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার।
এখনই গাছ থেকে সপ্তাহে ২/৩ বার পেঁপে সংগ্রহ করা যাচ্ছে। কাঁচা পেঁপে পাইকারি মূল্যে কেজি ৩৫ টাকা করে বিক্রি করছেন। এক বছরে প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে। বাগান করার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার টাকার কাঁচা পেঁপে বিক্রি হয়েছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে দেড় বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এতে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
পেপে বাগান দেখতে আসা সৈয়দ আরিফ আহমেদ বলেন, পরিশ্রম ও লক্ষ্য অদম্য থাকলে কৃষি কাজে সফল হওয়া সম্ভব। প্রথমবারের মতো পেপে বাগান করে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার বাগান দেখে এলাকার অনেকেই এখন উৎসাহ পাচ্ছেন পেপে চাষ করতে।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, সুইট লেডি পেপের জাতটি নতুন। এতে যেমন পোকার আক্রমন হয়না তেমনি ফলনও হয় বেশি। তাই বেকার যুবকরা এই পেপে চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবে সহজেই। মিল্লাদ তালুকদার তার প্রমান। উনার সফলতা দেখে অনেকেই এখন আমাদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন সুইট লেডি পেপের জাতটি খুবই ভালো। প্রচুর ফলন হয়। পোকা মাকড় আক্রমন করতে পারেনা এ জাতের পেপেতে। যার ফলে বাম্পার ফলন হয়। উপজেলার মধ্যে বানিজ্যিক ভিত্তিতে মিল্লাদ তালুকদার প্রথমবারেই সফলতা পেয়েছেন। এ জাতের পেপে চাষ করে সহজেই লাখপতি হওয়া সম্ভব। কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগীতা ও পরামর্শে যেকেউ পেপে চাষ করে বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।





