মৌলভীবাজারে গ্যাস সংকট চরমে।
সিলেট প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে। শহরের বাসাবাড়ি, সিএনজি পাম্প, চা-বাগানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকের যেমন দুর্ভোগ বেড়েছে তেমনি ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের। সংকট কাটাতে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে কাজটি আটকে আছে। অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অনুমোদন না পাওয়ায় রাজনগর থেকে মৌলভীবাজার গ্যাস লাইন স্থাপনের কাজও শুরু হয়নি। এতে দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুপুর থেকে গ্যাস থাকে না। বেলা ৩টার পর অল্প অল্প করে গ্যাসের চাপ বাড়ে। শীতের শুরু থেকেই এ সমস্যা তীব্র হয়ে উঠেছে। দুপুর থেকে বিকাল সময়টা বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন কারখানায় গ্যাসের প্রয়োজন হয় বেশি। মৌলভীবাজার শহর ও আশপাশ এলাকার প্রায় সাত হাজার গ্রাহক এবং বিভিন্ন সিএনজি পাম্প, কারাখানা রয়েছে। গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে। সংকট চলছে কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকাসহ বিভিন্ন চা-বাগানেও।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সংকট কাটাতে শ্রীমঙ্গলের কালাপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরাসরি শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার লাইনের সঙ্গে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। এজন্য ডিসেম্বরে কালাপুর ইউনিয়নের জাগছড়া চা-বাগানসংলগ্ন স্থানে লাইন সংযুক্ত করার কাজ শুরু হয়। কিন্তু কালাপুর এলাকাবাসী আগে তাদের গ্রামে গ্যাস সংযোগ দেয়ার দাবিতে এ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা দাবি করেন, আগে তাদের গ্রামে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। নয়তো গ্রামের ওপর দিয়ে লাইন নিতে দেবেন না তারা। এ ঘটনার পর জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড কর্তৃপক্ষ মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এবং মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদের সঙ্গে দেখা করে সমস্যাটি তুলে ধরেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম খানকে দায়িত্ব দেয়ার পর গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, কালাপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সংযোগের উদ্যোগটি কার্যকর হলে বর্তমানের সমস্যা থাকবে না। অন্যদিকে মৌলভীবাজার শহরের গ্যাস সমস্যা সমাধানে রাজনগর থেকে মৌলভীবাজারে সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আরো একটি পাইপলাইন স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সওজ বিভাগ থেকে রাস্তা কাটার অনুমতি না পাওয়ায় তা আর অগ্রসর হয়নি।
সওজ মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন জানান, সরেজমিন জরিপ করে সওজের সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। রাস্তা কাটার অনুমোদন পেলে জালালাবাদের সঙ্গে চুক্তি হবে।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক এম আওলাদ হোসেন জানান, স্থানীয়ভাবে বাধা দেয়ায় কালপুর থেকে সংযোগটি লাইন স্থাপন কাজ বন্ধ। সরকারি সিদ্ধান্তে আবাসিক সংযোগ দেয়া বন্ধ আছে।





