#সিলেট বিভাগ

দু’বছরেও কোন সুরাহা হয়নি ইতিহত্যা মামলার-হতাশায় পরিবার !

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অমানবিক ও আলোচিত হত্যাকান্ড হচ্ছে ইতি আক্তার (৬) এর নির্মম হত্যাকান্ড। এই মর্মে ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আলোচিত ওই মামলার বয়স এখন দু’বছরের অধিক। দীর্ঘ দু’বছর পরেও তিমির পেরিয়ে আলোর মুখ দেখেনি এ মামলা। তদন্তের এ দীর্ঘসূত্রতার শেষ কোথায় সে খবর কেউ জানেনা। কোন অদৃশ্য সুতার টানে থমকে আছে এ তদন্ত প্রক্রিয়া তাও অজানা সকলের।
শিশু ইতি আক্তার ছিল তার পরিবার নয়নের মণি। তার আত্মীয়স্বজন, সহপাঠী, খেলার সাথী সবারই জিজ্ঞাসা ইতি হত্যার ন্যায় বিচার কবে হবে? গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা একবাক্যে সবাই চাইছেন ইতি হত্যার রহস্য উন্মোচিত হোক দ্রুত। ইতি আক্তারের পিতা চটপটি বিক্রেতা আব্দুস শহিদ, কন্যার ছবি বুকে নিয়ে জনে-জনে যাচ্ছে কন্যা হত্যার সুবিচার প্রাপ্তির আশায়। ইতোপূর্বে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডকে ম্লান করে দিয়েছে এ আলোচিত শিশু ইতি হত্যা। এ নিঃসংশ হত্যাকান্ডের ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক এটাই সবার প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার বিরামচর গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের চটপটি বিক্রেতা আব্দুস শহিদের মেয়ে ইতি আক্তার। ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই ভোরে বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের মক্তবে যথারীতি আরবী পড়তে যায় ইতি আক্তার। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। সেদিন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া যায়নি। অবশেষে পরদিন ২৬ জুলাই সকালে মসজিদের পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেত থেকে ইতি আক্তারের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন ইতির বাবা। পরে ইতির বাবা এ নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন।
এদিকে, ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই ইতিহত্যা মামলাটি দায়ের করা হলেও দু’বছ পরেও মামলার তদন্তে কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। মামলাটির শুরুতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এর তদন্ত করলেও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হবিগঞ্জ এর হাতে যায় এ মামলার তদন্তভার। বর্তমানেও এ মামলার তদন্তভার পিবিআই এর কাছে ন্যস্ত রয়েছে।
এ মামলার বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শায়েস্তাগঞ্জের আলোচিত শিশু ইতিহত্যা মামলাটি পিবিআই হবিগঞ্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হবিগঞ্জ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ মামলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছি। তদন্ত এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই এর একটি সুরাহা হতে পারে। আমরা আশা করছি আশাব্যাঞ্জক তথ্য পাওয়া যাবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *