#সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ভালত্বের বন্ধন – আমিনা তাবাসসুম

বাবা-মা, ভাই-বোন, শশুর-শাশুড়ি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পৃথিবীর তাবৎ মানুষজন আমার ভাল চায়। সবার এত ভাল চাওয়ার চাপে পড়ে আমি যে কি চাই জীবনে তা কোনোদিন বুঝে উঠার ঠিক সময় পাইনি। অন্যের অভিমতে নিজের ভালমন্দ, চাওয়া পাওয়া নির্ধারণ করতে করতে জীবনের চল্লিশটা বছর পার করে দিলাম। এতদিন পর হঠাৎ মনে হল জীবনটাকে যদি আবার নতুন করে শুরু করতে পারতাম?

ছোটবেলা থেকেই আমি খুবই লক্ষী টাইপের মেয়ে। পাশের বাসার আন্টিরা নিজের ছেলেমেয়েদেরকে যাদের পা ধোয়া পানি খেতে বলে, সেইরকম বাড়াবাড়ি লক্ষী। আমি পড়াশুনায় ভাল, রান্না এবং ঘরকন্নার কাজে পারদর্শী, ভাল গান গাই, শুধুমাত্র লাজুক এবং বিনয়ীইনা তার সাথে ধার্মিকও। গুরুজনদের সবসময় মান্য করি, একেবারে সাত চড়ে রা করেনা টাইপ। ভালত্ব ওভারলোডেড বলা যায়।

তবে এই ভাল হওয়া কিন্তু মোটেও কোনো সহজ ব্যাপার না। তাহলেতো সবাই আমার মত ভাল হত। এর জন্য সারাদিন আমাকে যার পর নাই কষ্ট করতে হত। সকালের আরামের ঘুম ছেড়ে উঠে নামাজ পড়া, গানের গলা সাধা, পড়তে বসা, এসব ছোট্ট একটা মেয়ের পক্ষে সহজ ছিলনা। একটু যখন বড় হলাম , তখন সামনের বাসার কিশোর ছেলেটার প্রতি এক ধরনের তীব্র আকর্ষণ বোধ করতাম। সে প্রায়ই বারান্দায়, বাসার সামনে খেলাধুলা করতো। মন ছুটে যেত তবুও কোনোদিন তার সামনে আসিনি। পাছে কেও খারাপ ভাবে? সবার কাছে ভাল হবার আকাঙ্খায় ক্লাসে সবসময় প্রথম সারিতে বসতাম, পড়তে ইচ্ছা না করলেও জোর করে পড়তাম, সিনেমার নায়িকাদের মত অনেক সাজুগুজু করার শখ থাকলেও আমার পোশাকআশাক সাজ সজ্জা সবসময় ছিল মার্জিত এবং সাদামাটা। কাজিনরা একসাথে হলে যখন সবাই হাহাহিহি করে উচ্চস্বরে হাসাহাসি ঠাট্টাতামাশা করতো আর বাড়িতে মা চাচীরা বেহায়ার মত হাসির জন্য তাদের বকা দিতো, তখন সবার সাথে থেকেও আমার আবেগের প্রকাশ ছিল খুবই নিয়ন্ত্রিত।

তবে আমার এই কষ্টের প্রাপ্তিটাও অবশ্য কম ছিলনা। চারিদিকে ছিল আমার জয়জয়কার। মা বাবার গর্ব ছিলাম আমি, মামা চাচারা আদর করে বলতো আমি নাকি তাদের মেয়ে, শিক্ষক শিক্ষিকারা গর্ব করে বলতো, দ্যাখো, আমার ছাত্রী। সবার কাছ থেকে ভালত্বের প্রত্যায়ন পত্র পাওয়া মনে হয় নেশার মতো। আর আমি সেই নেশার ঘোরে ভাল থেকে আরও ভাল হওয়ার পিছে ছুটে ছুটে বেড়াতাম সারাদিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় কোনটা আমার জন্য ভাল তা নিয়ে ছিল নানা মুনির নানা মত। কেও বলে আর্কিটেক্ট হতে, কেও ডাক্তার, কেও ইঞ্জিনিয়ার, কেওবা বলে লইয়ার হতে। সবার আলোচনায় অবশেষে ঠিক হলো আমার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে আর্কিটেকচার। আমি নাকি পড়াশুনার পাশাপাশি একজন সৃজনশীল আঁকিয়েও। আমিও বুঝলাম আমার জন্য এটাই ভাল। দেশের সবচেয়ে নামকরা এক প্রতিষ্ঠানে স্থাপত্যবিদ্যায় পড়াশুনা শুরু করলাম। পরিবার আর শুভাকাঙ্খীদের দৃঢ় মতামত যে পড়াশুনা শেষ করার আগে প্রেম বিয়ে এসবের চিন্তা মাথায় আনাই খারাপ। এসব চিন্তা আমার সবসময় মাথায় আসলেও তা বাস্তবায়নের দুঃসাহস করে আমার ভালত্ব নষ্ট করার ইচ্ছা কখনও হয়নি। অনার্সের প্রথম বর্ষে দুই একজন ছেলে আমার প্রতি সামান্য আগ্রহ দেখালেও আমার নিরস বিরস ব্যাক্তিত্বে স্বাভাবিকভাবেই অতি সত্বর আমার প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলে তারা।

পড়াশুনা শেষ করার ঠিক আগে আগেই আমার সব শুভাকাঙ্খীরা আমার জন্য পাত্র দেখতে উঠে পড়ে লাগলো। আমি দেখতে সাদামাটা হলেও আমার ভালত্বের জয়গান সবার মুখে মুখে। তাই ভাল প্রস্তাবের তেমন কোনো অভাব হয়নি। ভাল ভাল পাত্রদের থেকে বাছাই করে সবচেয়ে ভাল পাত্রটাকেই আমার জন্য নির্বাচন করা হল। পাত্রের সাথে আমার দেখা সাক্ষাৎ মেলা মেশার সুযোগ করে দেওয়া হলো। হাজার হলেও এটা হলো আধুনিক যুগ। ছেলে মেয়ে নিজেরা নিজেদের ভালভাবে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিক, এমন একটা ভাব। এমন ভাব হলে কি হবে, আমার কাছে এখানে আমার নিজের সিদ্ধান্তের কোন সুযোগ আছে বলে একটুও মনে হয়নি। আমার জন্য সবচেয়ে ভালটা যাচাই বাছাই করা হয়েছে এবং একজন ভাল মেয়ে হিসেবে সেটা মেনে নেওয়াই আমার কর্তব্য মনে হয়েছে।

পাত্র অবশ্য আসলেই ভাল। দেখতে মোটামুটি ভাল, পড়াশুনায় খুবই ভাল, শিক্ষিত এবং স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে, কথাবার্তায় ভদ্র এবং মার্জিত। আমার একেবারে প্রকৃত জুটি। সোনায় সোহাগা যাকে বলে। ছেলে বর্তমানে ইংল্যান্ডে ভাল চাকরি করে। বিদেশে গিয়ে আমার আরও ভাল উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে। পাত্রের কোনো খুঁত আমি ধরতে পারলামনা কিন্তু কেন জানি তার প্রতি বিন্দুমাত্র আকর্ষণ বোধ করিনি, না মনের দিক থেকে না শরীরের দিক থেকে। আমার ভালর খাতায় আরো ভাল যোগ করে ভাল পাত্রের সাথে ঘটা করে বিয়ে হয়ে গেলো আমার।

বিয়ের পর ইংল্যান্ডে নতুন জীবন শুরু হল আমার। আমার স্বামী মানুষটি আসলেই ভাল। সে আমাকে মনে হয় সত্যিই ভালবাসে। আমাদের ছোট্ট সাজানো সংসার। কোনো ঝুটঝামেলা নেই, কষ্ট নেই, অস্বচ্ছলতা নেই, আমার স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ নেই, আমি চাইলেই আমার ইচ্ছামত জীবনটাকে সাজাতে পারি। কিন্তু সমাজের বেঁধে দেওয়া ভালত্বের সংজ্ঞা অনুসারে চলতে চলতে আমার ইচ্ছাটা যে কি আমি তো কোনোদিন বুঝে দেখার চেষ্টা করিনি। আমি শুধু জানি ভাল হয়ে চলতে। অতঃপর ভাল জায়গায় পড়াশুনা শুরু করলাম। নিপুন হাতে সংসারের কাজ করা শুরু করলাম। ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় দক্ষ অভিনেত্রীর মতো প্রতি রাতে স্বামীর চাহিদা মেটানো শুরু করলাম। কোথাও যেন কোনো খুঁত থাকেনা, এটাই যেন আমার জীবনের মূলমন্ত্র। জীবনের একমাত্র চালিকা শক্তি।

পড়াশুনা শেষ করে ফটাফট ভাল চাকরিও পেয়ে গেলাম। এদেশে আর্কিটেক্টদের চাকরি পাওয়া বেশ ঝক্কির ব্যাপার। প্রথমে নানান কোয়ালিফিকেশন এবং বিনাবেতনে চাকরি করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার পরই ভাল চাকরি পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত্রে সেরকম কিছুই হলনা। একবারে ভাল চাকরি এবং সেখানে খুব তাড়াতাড়িই ভাল করতে থাকলাম। এতদিন শুভাকাঙ্খীদের অনুরোধ ছিল যে সেটেল না হয়ে যেন বাচ্চা কাচ্চার কথা চিন্তা না করি। আমিও ভাল মেয়ের মত সেই মোতাবেক চলেছি। এরপর চাকরি পাওয়ার সাথে সাথে সবার আদেশ, বয়স হয়ে যাচ্ছে, এখুনি যেন আর দেরি না করে বাচ্চা নিয়ে নেই। এখনই বাচ্চা নেওয়ার সবচেয়ে ভাল সময়।

“ভাল” শব্দটা আমার জীবনে একেবারে ম্যাজিকের মত। কোনো কিছু ভাল শুনলেই তা আমার অর্জন করা চাইই চাই। কিন্তু জীবনে এই প্রথম বিশাল একটা ধাক্কা খেলাম। দিনের পর দিন চেষ্টা করার পরও কিছুতেই কনসিভ করছিলামনা। বছর ঘুরতে ডাক্তার দেখালাম। আমাদের দুইজনেরই নানান টেস্ট করার পর কোনো সমস্যা পাওয়া গেলোনা। ডাক্তার বুঝালো অনেক সময় এসব ব্যাপারে টাইম লাগে। একটু সময় দিতে এবং কনসিভ করার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য কিছু উপদেশ দিয়ে ছেড়ে দিলো। আবার চেষ্টার পালা কিন্তু কোনো আশার আলো দেখতে পেলামনা।

এদিকে আমার বয়স বেড়ে যাচ্ছে। এটাতো ভাল ব্যাপারনা। বাবা মা এত হতাশ যে তাদের সাথে কথা বললে মনে হয় তারা এই দুঃখে যেকোনো সময় মারা যেতে পারেন। শশুর শাশুড়ি, পরিবার পরিজন, শুভাকাঙ্খীরা সবাই চিন্তিত। সবাই দিন রাত উপদেশ দিতে থাকলো। এটা চেষ্টা করো, সেটা চেষ্টা করো, অন্য ডাক্তার দেখাও, ইংল্যান্ডের ডাক্তার ভালনা, সিঙ্গাপুরের ডাক্তার দেখাও, হারবাল ট্রিটমেন্ট কর আরও কত কি। সারাজীবন আমার কি করা উচিত তা তো আমার শুভাকাঙ্খীরাই নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই আমার আসলেই কি করা উচিৎ সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার ঠিক ছিলোনা।

এতদিনে বুঝলাম আমার সব ভালই আসলে ভাল ছিলনা। চারিদিকে নানান কথা শুনতে পেলাম। কেও বলে, স্বার্থপরের মতো নিজের পড়াশুনা, চাকরি বাকরি এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বাচ্চা কাচ্চা হবে কেমন করে? সব কিছুর একটা সময় আছেনা? কেও বলে; এত ভাল হয়ে কি লাভ হলো? একটা বাচ্চা না হলে, জীবনের আর কি থাকলো? অনেকেই আমাকে দেখে চুক চুক করে দুঃখ প্রকাশ করে আর নিন্দুকেরা বলে, “বলেছিলাম না, বেশি ভাল ভালনা”। কোনো এক জাদুবলে, রাতারাতি আমার এত কষ্টের উপার্জিত ভালত্ব চোখের সামনে ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে এবং আমার কিছু করার কোন ক্ষমতাই এখানে নাই।

সারাজীবন যেমন সমাজের বেঁধে দেওয়া সংজ্ঞা অনুসারে ভাল হওয়ার চেষ্টা করেছি, এখনো ঠিক তেমন ভাবে সবার বুদ্ধি অনুসারে একটা বাচ্চা হওয়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি । অবশেষে টানা তিন বছর চেষ্টার পর আইভিএফ ট্রিটমেন্টের শরণাপন্ন হলাম। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে পর পর দুইবার নিষ্ফল হলাম। প্রত্যেকবারই একদুই সপ্তাহের মধ্যেই মিসক্যারেজ হয়ে গেলো। এদেশে দুইবারের বেশি সরকারি খরচে আইভিএফ এর ট্রিটমেন্ট হয়না। এর পর নিজের খরচে প্রাইভেটে আইভিএফ করাতে চাইলে করা যায়। শুভাকাঙ্খীদের প্রতিনিয়ত উপদেশ। অমুকে আইভিএফ করে পাঁচবারে সফল হয়েছে তো তমুকে সাতবারে। চেষ্টা করতে থাকো। কেও আবার বলে টাকা পয়সা আয় করছ কিসের জন্য? নিজের ফুর্তির জন্য? বরং টাকা পয়সা ট্রিটমেন্টে কাজে লাগাও। আখেরে ভাল হবে।

তাইতো, আখেরে যদি ভাল হয়? ভালর পিছে ছোটাই তো আমার কাজ। এতে আমার কোনো ক্লান্তি নেই। দুইবছর আবার অনেকের বুদ্ধিতে নানান ওষুধ, হারবাল, প্রাকৃতিক পন্থা চেষ্টার পর আবারও প্রাইভেটে আই ভি এফ করার সিন্ধান্ত নিলাম। এবারও ট্রিটমেন্ট কাজে দিলোনা। ডাক্তার পরামর্শ দিলো ছমাসের আগে আর আইভিএফ করা ঠিক হবেনা তবে বছরখানেক বিরতি দিলেই মনে হয় ভাল। আমার বয়স তো বেড়ে যাচ্ছে। প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। এবারই মনে হয় শেষ চেষ্টা। অনেকেই বুদ্ধি দিলো যে এক বছর অপেক্ষা করা ঠিক হবেনা।

ছয় মাসের মাথায় আবারও চেষ্টা করলাম। প্রতিবার এক দুই সপ্তাহের মধ্যেই মিসক্যারেজ হয়ে যায়। এবার আট সপ্তাহ হয়ে গেলো। সবতো মনে হয় ঠিকমতোই চলছে। কিন্তু হঠাৎ করে আমি যেন নতুন একটা ব্যাপার উপলব্ধি করেছি। এই ভালর পিছে ছুটে ছুটে আমি আসলে খুবই ক্লান্ত। যদিও ভাবি, কে বলেছে আমাকে ভালর পিছে ছুটতে? কেও তো বলেনি? আমি নিজেই ছুটেছি। কিন্তু অবুও আর যেন পারছিনা। গত প্রায় দশ বছর ধরে এক সন্তান হওয়ার পেছনের শারীরিক আর মানুষিক কষ্ট আমার ভাল হবার শেষ বিন্দু পরিমান ইচ্ছাটাকে নিঃশ্বেষ করে দিয়েছে। সত্যি কি আমি এক সন্তানের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি? কোথায়? কখনও তো আমার একজন শিশুর জন্য মন কাঁদেনি? কখনো তো আমার নিজেকে একা লাগেনি? কখনো তো মনে হয়নি একজন সন্তান ছাড়া আমার জীবন শূন্য? তাহলে কেন নিজের সাথে নিজের এই ছলনা? শুধুমাত্র সমাজের চোখে ভাল সেজে মা হবার চেষ্টা করা।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এবারও বাচ্চাটা মিসক্যারেজ হয়ে যাবে। এরপর এই বয়সে এসে আর চেষ্টার কোনো প্রশ্ন আসেনা। ডাক্তাররাই নিরুৎসাহিত করছে। এরপর সব কিছু ভাল করলেও এই অদ্ভুত সমাজে অনেকের চোখেই আমি পাকাপাকিভাবে অপূর্ণ থেকে যাবো। এতেই হবে আমার পরিপূর্ণ মুক্তি। নতুন করে নিজেকে জানার চেষ্টা করবো, বুঝার চেষ্টা করবো, নিজের ইচ্ছার প্রাধান্য দেওয়া শিখবো , মুক্ত করবো নিজেকে এতদিনের বেছে নেওয়া পথ থেকে। যদিও মনে হয় চল্লিশটা বছর পার করে দিলাম? বড্ড দেরি করে ফেলেছি। মনে হয়, জীবনটাকে যদি আবার নতুন করে শুরু করতে পারতাম ?

আজ আমি ডাক্তারের চেম্বারে বসে আছি। কিছু টেস্ট করে ডাক্তারের সাথে কথা বলার কথা। সাথে আছে আমার স্বামী । আমার এই পুরোটা যাত্রায় সে আমার সহযোগিতা করে এসেছে। সেও যে আমার মতোই ভাল। আমার অবচেতন মন আশায় আছে টেস্টগুলোর রিপোর্ট দেখে প্রতিবারের মত এবারও ডাক্তার আমাকে হতাশ করা খবর দিবে। কিন্তু এবার আমি আর হতাশ হবনা, আমি হব বন্ধন মুক্ত, আমি হব স্বাধীন ।

হঠাৎ, ডাক্তারের ডাকে আমার সম্বিৎ ফিরে আসলো। মিষ্টি ডাক্তার মহিলাটি মনোযোগের সাথে আমার সব রিপোর্ট পর্যবেক্ষন করে হাসিমুখে জানালো, সব কিছু খুবই পসিটিভ মনে হচ্ছে। এই আট সপ্তাহে বাচ্চার গ্রোথ, আমার স্বাস্থ্য সব কিছু একদম চমৎকার এগোচ্ছে। এর পর অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে আগের মতো এবার মিসক্যারেজ হবার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। আমার কি কি করণীয় সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে আগামী অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে বলে আমাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিদায় দিলো। গাড়িতে ফিরে আমার স্বামী আমার দিকে তাকিয়ে আমার হাত ধরে চমৎকার এক হাসি দিলো, ভালোবাসার হাসি, প্রাপ্তির হাসি, এতদিনের কষ্টের নিষ্পত্তির হাসি। গাড়িতে বাকিটা পথ আমার দুচোখ দিয়ে ক্রমাগত অশ্রু ঝরতে লাগলো। আমার স্বামী আমাকে কাঁদতে দিলো। আনন্দের কাঁন্নায় বাঁধা দিতে নেই। কিন্তু আমি কি করে বুঝাব এ যে ঠিক আনন্দের কান্না না। আমি কেঁদেই চললাম। আমার মনে হলো, জীবনটাকে নতুন করে শুরু করা আর হলোনা। ভালত্বের বন্ধন থেকে এ জীবনে আর নিজেকে মুক্ত করা হলোনা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *