#সাহিত্য ও সংস্কৃতি

কভিড-নাইন্টিন – এম হায়দার চৌধুরী

কভিড-নাইন্টিন
এম হায়দার চৌধুরী
“””””””””””””‘:””””””””””””””’

ভয়ঙ্কর ঘাতক, ভাইরাস কভিড-নাইন্টিন,
গুপ্তঘাতকের ভয়ে সবাই কোয়ারেন্টিন।
অঙ্গ হতে অঙ্গ দূরে, আর করে সঙ্গনিরোধ,
এই নীতি পালনে হবে, ভাইরাস প্রতিরোধে।
করোনাভাইরাস, এ শতাব্দীর মহা সন্ত্রাস
যখন যাকে পায়, করে সে নিমেষেই গ্রাস।
আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে ডানা, করে উল্লাস
দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়, সবখানে বসবাস।
নিমেষে আমেরিকা কানাডা, গ্রিস সাইপ্রাস,
নাই কোন জাত ভেদাভেদ, শুধুই প্রাণনাশ।
রোধিবে কে তারে? সে রোধিবার নয় যে,
মানুষের রোদনে, দীপ্তপ্রাণ ফিরে পায় সে।
শতবর্ষ পরে আবির্ভাব, শতবর্ষী ভাইরাস,
বিমর্ষ মানবতার ললাটে, প্রলয় মহাত্রাস।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, খোঁজে ফিরে ভ্যাকসিন,
নির্ঘুম সাইন্টিস্ট, গবেষক অধরা মেডিসিন।
আর কত প্রাণ সংহারি, হবে করোনা বিনাশ?
ভয়ে কাঁপে বিশ্ববাসী, মানবকূলের সর্বনাশ।
সারাবিশ্ব একাত্ম, নিধনে করোনাভাইরাস,
মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই, শুধুই দীর্ঘশ্বাস।
করোনা শেষে যদি না থাকে কোন জীবে প্রাণ,
অক্ষম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি রইলো সংযুক্ত প্রমাণ।
করোনাভাইরাস, তুমি বড়ই নির্দয়, নিঃসংশ,
কর তুমি সকল মানব মানবী বিনাশ, ধ্বংস।
করোনা তোমার ভয়ে গোটা দুনিয়া কম্পমান,
ক্ষুব্ধ পৃথিবী নিস্তব্ধ, নিশ্চুপ জমিন আসমান।
নবজাতক শিশু, শতবর্ষী সবাই একাকার,
বিধ্বংসী ত্রাসে তোমার চারিদিকে হাহাকার।
সুনীল শুভ্র গগনে উড়ে কাক-শকুন দৃশ্যমান,
বিশ্বব্যাপী বেশুমার মৃত্যু দেখে ভুবন আসমান।
বিষাদময় ঐ শ্মশান, লাশবহে চলে গোরস্থান,
নাই কেউ নাই, সারিসারি লাশ কবরে অবস্থান।
সেবিকা মরে, প্রেমিকা মরে, মরে সুচিকিৎসক,
চালক, বালক সবাই মরে আর মরে সংশপ্তক।
লুটেরা মরে ডাকুরা মরে, মরে কত প্রবঞ্চক,
তস্কর মরে লস্কর মরে, আরো মরে কত তঞ্চক।
সকালে মৃত্যু বিকাল মৃত্যু, মৃত্যু হয় নিশিকালে,
সারি সারি লাশ দেখায়, আঁধার নিশি পোহালে।
দেশে দেশে তান্ডব, অবিরত অবিরাম বে-রহম,
চিন হতে ইতালি, স্পেন, ইউকে চলছে হরদম।
আমেরিকা মস্কো ইরান, মস্ত লোকালয় বিরান,
আরব অনারব ইউরোপ আফ্রিকা ওমান উহান।
নিষ্ঠুর করোনা এবার থাম শান্ত হও আমার বন্ধু,
আর কতো দেখাবে লাশ, শোনাবে বিষাদসিন্ধু।
হে করোনা, দিলে নাই করুণা? আরতো পারিনা,
হয়ে নির্বল নির্জীব শ্রান্ত কুটিরে কাঁদিতে পারিনা।
শোকে পাথর, দেহ নিথর নয়নে নাই উষ্ণ জল,
জনশূন্য আকুল পাথারে, নাই প্রত্যয় নাই বল।
সেইদিন কবে হবে, এ ভাইরাস সমূলে শেষ,
আবার গাইব সে গান, হে আমার বাংলাদেশ।
ছিলাম, আছি স্বচ্ছন্দ চিত্তে থাকবো বেশ,
দীর্ঘজীবী হও আমার প্রিয় বাংলাদেশ।।
“””:”””:”””:”””:”””:”””:”””:”””

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *