“কথোপকথন ” — সারোয়ার চৌধুরী
মে আই ?
শিউর !
অথচ অনেকগুলো টেবিল খালিই ছিলো।
আমি একটা থিসিস করছি ।
তা আমাকে কি গিনিপিগ মনে হচ্ছে ?
অমন করে বলছেন কেন !
নিজের দিকে তাকালাম বারকয়েক আপাদমস্তক, নাহ ওজন বারশত গ্রামের বেশীই আছে।
দ্বিধায় পড়ে গেলাম অস্থিরতা কাজ করছে। আয়নার সামনে দাঁড়ানোর দরকার।
এক্সকিউজ মি ।
রেষ্টুরেন্টের ওয়াশ রুমটা খুঁজতে শুরু করলাম।
না – বাঁচা গেলো গিনিপিগের মত মনে হচ্ছে না। তবে খুউব গভীরভাবে তাকালে কপালে একটা কাটা দাগ দেখা যায়।
আমি ভাবছি চলে গেলেন । এসেছেন ভালোই হল।
আচ্ছা – আপনি কি আমাকে সেই দ্বাদশ শতাব্দীর রোমথা ভেবে বসে আছেন ? যার কপালে কাটা দাগ ছিলো।
রোমথা ! যে গিনিপিগের মতো ব্যবহৃত হতো আয়ুর্বিদ্যার কাজে ?
ভাবলেও ভাবতে পারেন আমি সেই আয়ুর্বিদ্যার বিষাক্ত সিরাপ পান করে চলছি। ফাঁসির পূর্ব পর্যন্ত বহুবার সঙ্গম করে যাবো মৃত্যু নামক কবিরাজ ও তার যুবতী বউয়ের সাথে।
নাহ আমার থিসিসটা ছিলো ময়না বা টিয়া নিয়ে , প্যাঁচা বা কাককে কেউ খাঁচায় আটকায় না ওদের আটকায় কেন ?
কফি খাবেন ? বিলটা কিন্তু আপনাকেই দিতে হবে চিনি ছাড়া ব্ল্যাক। শুনুন সুন্দরকে বাহুবলে অসুন্দর করে দেয়ার মধ্যেই লোকের যতো আনন্দ।
আচ্ছা এ অসুন্দরের কাছে মানুষ কি সুখ পায় ?
এ আনন্দ আমাদের হরমোনের নিঃসরণকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যা আমাদের মস্তিষ্কে সুখের অনুভূতি উৎপন্ন করে।
আপনি সত্যিই একটি প্যাঁচা।
আবারও বিব্রতবোধ নিয়ে প্রতিবিম্বের খোঁজে উঠার চেষ্টা করতেই বলে উঠলো – আয়না খুঁজছেন ? আয়নার সামনে গেলে যে আপনি মানুষ হয়ে যান !
ওহ মাই গড ! আমি কি তাহলে মানুষ নই ?
নাহ আপনি কখনও প্যাঁচা কখনও কাক। আপনি লোকের উপর থুতু ছিটিয়ে সুখ অনুভব করেন। যার থুথুর ফেনার সমান যৌগ্যতাটুকুও আপনার নেই।
আপনার কথাগুলো বেশ ভালো লাগলো। বিলটা আমিই দিবো। তা আপনি থিসিস করার জন্যে আর কোন বিষয় খুঁজে পেলেন না ?
না এ বিষয়টা আমার ভাল লেগেছে। তাই আপনাকেই খুঁজছিলাম। আমি আসবো দেখে যাবো সেদিন আবার ময়না বা টিয়া সেজে বসে আছেন কিনা।
এক্সকিউজ মি।
মে আই ……..?
ওহ্ ইট ওয়াজ এ বিউটিফুল ইভিনিং।
চুপচাপ বসে বসে প্রার্থনা করতে লাগলাম
হে ঈশ্বর ,
সময়কে ঘুটি করে মার্বেল খেলার জন্য আরও কিছুকাল এই মরপৃথিবীতে বেঁচে থাকা জরূরী আমার।





