খালেদা জিয়ার অবস্থা আগের মতোই।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। গত দুই দিনে অবস্থার অবনতি হয়নি। তবে এটাকে উন্নতিও বলতে চান না চিকিৎসকেরা। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে এই কথা বলেন।
জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে একাধিকবার ভর্তি হন। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের অধীনে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর চিকিৎসায় ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়েছে। তাঁর চিকিৎসায় রাজধানীর আরও কমপক্ষে দুটি বড় বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যুক্ত রয়েছেন।
এ ছাড়া চিকিৎসক নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রায় সার্বক্ষণিকভাবে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
খালেদা জিয়ার বয়স ৭৬ বছর। তিনি একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন পরীক্ষা হচ্ছে। গতকাল দুপুরেও নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে। গত বুধবার বিকেলেও কিছু পরীক্ষা হয়েছে।
গত মাসের শেষ সপ্তাহে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নতুন করে আলোচনায় আসে। গত ২৫ অক্টোবর এ জেড এম জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার শরীরে একটি ছোট আকারের লাম্প বা চাকা পাওয়া যাওয়ায় বায়োপসি করা হয়েছে।
এ ছাড়া খালেদা জিয়ার দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যা আছে বলেও জানা গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার শরীরের একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ক্ষুদ্রান্তে রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই দুটি বিষয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে একই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে।
এভারকেয়ার হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য এখনো দেননি। জনসংযোগ বিভাগ থেকে বলা হয়, ‘রোগীর অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো রোগী সম্পর্কে কোনো কথা বলি না, বলতে পারি না। আমাদের সেই অনুমতি নেই।’
তবে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই সমস্যা দেখা দিতে পারে। আজ ভালো তো কাল খারাপ। কোনো নিশ্চয়তা নেই। দেশের সেরা চিকিৎসকদের একত্র করা হয়েছে। তাঁরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। তাঁরাও বিশ্বের সেরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়া জরুরি। এ জন্য সরকারের অনুমতি চেয়ে খালেদা জিয়ার পরিবার সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদনও করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইনগতভাবে এটা সম্ভব নয়।
খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিতে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তাঁর সুস্থতার জন্য গতকাল দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।





