#পাঠক সমাচার

হাতের আঙুল ফোটালে কি আর্থ্রাইটিস হয়?

হাতের আঙুল ফোটালে ক্ষতি কী? লাভ আছে কোনো? হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, আঙুল ফোটালে যে শব্দ হয়, তা হয়তো আশপাশের মানুষকে বিরক্ত করতে পারে, তবে এর থেকে আর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় না। কারণ, বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা আঙুল ফোটান আর যাঁরা ফোটান না—উভয়ের ক্ষেত্রেই আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি নেই কিংবা সমান। ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক ডি এল আনগার সারাজীবন কেবল একটি হাতের আঙুলই ফুটিয়েছেন এই গবেষণার স্বার্থে। প্রতি দশকে আঙুলের এক্সরে করে কোনো সমস্যাই খুঁজে পাননি তিনি।

আঙুল ফোটানোর সময় যে শব্দ হয়, তা নিয়েও ভুল ধারণা আছে। অনেকেই মনে করেন, এই শব্দ হয় হাড়ের সঙ্গে হাড়ে ঘষা লাগার ফলে। আসলে কিন্তু তা নয়। মানবদেহে হাড়গুলোর সংযোগস্থলে একধরনের তরল পদার্থ থাকে। যা হাড়ের নড়নচড়নে সাহায্য করে। একে বলে সিনোভিয়াল ফ্লুইড।

হাড়ের সংযোগস্থলে শূন্যস্থান তৈরি হলে এই তরল পদার্থে বুদ্‌বুদ তৈরি হয়, আর তা ফেটেই শব্দ সৃষ্টি করে। একইভাবে হাড় বা আঙুল যখন টানা হয় অথবা বাঁকানো হয়, তখন হাড়ের সংযোগস্থলে ফাঁক বেড়ে যায়। আর ঠিক তখনই তরল পদার্থের বুদ্‌বুদ ফেটে যায় এবং মটমট শব্দ কানে আসে। এ কারণে একই আঙুল একবার ফোটালে সঙ্গে সঙ্গে আরেকবার ফোটানো যায় না। হাড়ের সংযোগস্থলে তরলের বুদ্‌বুদ তৈরি হতে কিছুটা সময় নেয়।

আর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি নেই বলে কি আরও বেশি বেশি আঙুল ফোটানো ঠিক হবে? মোটেও না। দীর্ঘদিন ধরে আঙুল ফুটিয়ে গেলে হাত মুষ্টিবদ্ধ করার শক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া আঙুল ফোটানোর সময় আঘাত পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে প্রচুর। তাই সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।

সূত্রঃ প্রথম আলো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *