#ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সিলেটের দুই কৃতি সহোদরের কথা — সি এম তোফায়েল সামী

লিখবো লিখবো করে লিখতে পারছিনা। কিছু আলসেমি, কিছু মন খারাপ। আজ পুরা সাত মাস ঘর বন্দি । দেশের কিছু আলোকিত মানুষকে নিয়ে লিখেছি বিশেষ করে সিলেটের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যাক্তি নিয়ে আরও কয়েকজনকে নিয়ে লিখার ইচ্ছে আছে। যাক, আজ সিলেটের দুই জনকে নিয়ে লিখার চেষ্টা করবো, দুই সহোদর ভাই। একজন আসাম বাংলার প্রথম মুসলিম ICS ( Indian Civil Service) মরহুম গজনফর আলী খান, অন্যজন সিলেটের সন্তান প্রথম মুসলিম Civil Surgeon এবং গজনফর আলী খান সাহেবের বড় ভাই ডাক্তার আসদ্দর আলী খান।
গজনফর আলী খানকে নিয়ে লিখার আগে ICS কি জানা দরকার। ” The Indian Civil Service ( ICS) officially known as Imperial Civil Service, was the elite higher civil service of the British Empire in British India during British rule in India from 1858 to 1947″ The then British Prime Minister David Lloyd George speaking in the House of Commons said ” The ICS is the steel frame, on which the whole structure of our government and our administration in India rests”.( Ref. Google).


১৮৫৮ সালে ICS নিয়োগ আরম্ভ হলেও প্রথম দিকে শুধু ব্রিটিশরা নিয়োগ পেতেন। ভারতীয়দেরে নেওয়া হতোনা।ভারতীয় বলতে আমি বর্তমান ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বুঝাচ্ছি। ১৮৬৪ সালে প্রথম ভারতীয় ICS হলেন Styandra Nath Tagore. কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাই।আরো প্রসিদ্ধ ব্যাক্তিবর্গ যেমন নেতাজী সুভাসচন্দ্র বোস, সুরেন্দ্র নাথ ব্যানার্জি, আসামের গভর্নর সালেহ আকবরী, গুরুসদয় দত্ত, পাকিস্তান সময়ে পাকিস্তানের তিন প্রধান বিচারপতি Justice Shahabuddin, Justice SARahman, Justice Cornelius. বাংলাদেশের পর পাকিস্তানের প্রথম হাই কমিশনার খুরশিদ সাহেব ও ICS ছিলেন। বৃটিশ সময় খুরশিদ সাহেব সিলেটের খুব পপুলার DC ছিলেন। তিনি আবার আমাদের প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী জনাব এমরান আহমদের চাচা। এখন কোনো ICS জীবিত নেই। Last being late Aftab Kazi ICS of 1943 batch died in 2016 at age 98 yrs. He hold important positions in Pakistan.
ডাঃ আসদ্দর আলী খান ও গজনফর আলী খান ICS..
**********************************************তাঁদের পিতা পাঠান বংশের মোহাম্মদ আবেদ খান। তাদের বসতবাটি সিলেটের উপকন্ঠে বিরাইমপুর গ্রামে। মরহুম আবেদ খান অনেক ভূসম্পত্তির মালিক ছিলেন। তিনি একজন পরোপকারী সমাজ হিতৈষী ছিলেন। তিনি তাহাদের জমিদারীর গোড়াপত্তন করেন।

আবিদ আলী খানের জ্যেষ্ঠ পুত্র হলেন ডাক্তার আসদ্দর আলী খান। তিনি ১৮৫০ সালে জন্ম গ্রহন করেন। Dr.Asaddar Ali Khan did his Entrance and FA from Calcutta Madrasa. Passed LMF and joined Indian Medical Service. Became Civil Surgeon of Patna, Bihar. He was a prominent physician of his time. For his good work the government awarded him the title of Khan Bahadur. He retired from government service in 1937.এবং গ্রামের বাড়ি এসে সমাজ সেবা এবং জমিদারীর দিকে নজর দেন। ১৯৩৬ সালে সিলেট মাতৃমঙল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি পরবর্তী জীবনে দেশে রাস্তাঘাট, চিকিৎসালয়, তাতঁ শিল্প, প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর সময় জমিদারীর ও প্রসার লাভ করে। নিজ গ্রাম বিরাইমপুর সহ বহু গ্রামে তাদের জমিদারী ছিলো।
ডাঃ আসদ্দর আলী বিয়ে করেন বিহারের মুংগেরের নবাবজাদী শরিফুন্নেসাকে। উনার ৮ ছেলে ও ৪ মেয়ে ছিলেন। ১ম পুত্র হলেন মরহুম আহমদ আলী খান Barrister. Barrister Ahmed Ali Khan married a niece of Justice Sir Syed Amir Ali. আহমেদ আলী খানের পুত্র হলেন আমাদের সুনামধন্য এক সময়ের আমাদের নৌবাহিনী প্রধান Rear Admiral MA Khan, যিনি ১৯৮৪ সালে ঢাকা এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু বরন করেন। ডাঃ আসদ্দর আলীর সব ছেলে উচ্চ শিক্ষকিত ছিলেন। তাহার বড় মেয়ে পাকিস্তানের একসময়ের মন্ত্রী আজমল আলী চৌধুরীর মাতা।
জেনারেল এমএজি ওসমানী সাহেবের পিতা খানবাহাদুর মফিজুর রহমান সাহেব ও আসদ্দর আলী সাহেবের ভাগিনা ছিলেন। উনার কনিষ্ঠ কন্যা জিল খান Oxford graduate. ১৯৩৭ সালে ১ নভেম্বর তিনি নিজ গ্রাম বিরাইমপুরে মৃত্যু বরন করেন এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাহাকে দাফন করা হয়। জানাজা নামাজ পড়ান মৌলানা হজরত হোসেন আহমদ মাদানী।
জনাব গজনফর আলীর জন্ম ১৮৭২. He did his Entrance in 1890 and FA in 1892 from Calcutta Madrasa with good marks. প্রায় ২২ বৎসরের বড় ভাই ডাঃ আসদ্দর আলী উনাকে ছেলের মতো আদর করতেন। তিনি ছোট ভাই গজনফর আলীকে লন্ডন পাঠিয়ে দেন উচ্চ শিক্ষার জন্য। Gazanfar Ali Khan left for London in 1893 and admitted in Cambridge University and graduated from Cambridge with distinction. Then he took part in competitive examinations for ICS on 1897 and stood 1st among all candidates. On return to India he was posted in the than Central Province (এখন মধ্যে প্রদেশ)। তিনি প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় চাকরি করে নাগপুরের বিভাগীয় কমিশনার হিসাবে ১৯৩২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। Before that for his meritorious services British government awarded him OBE & CIE. তিনি একজন ন্যায় পরায়ন, বিচক্ষণ, দায়িত্বশীল শাসনকর্তা ছিলেন।
তিনি অবিবাহিত ছিলেন। তিনি বড় ভাই আসদ্দর আলীর কনিষ্ঠ কন্যা জীল খানকে পালক গ্রহন করেন।
জীল খান ও অবিবাহিত ছিলেন এবং Oxford graduate হয়েও গ্রামের বাড়িতে থেকে চাচার সেবা ও জমিদারী দেখা শুনা করতেন। অবসর গ্রহণ করে গজনফর আলী খান শহরের আরাম আয়েস ছেড়ে নিজ গ্রাম বিরাইমপুর চলে আসেন। পল্লী গ্রাম এসে তিনি আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেন। বড় ভাই এর সাথে মিলে তিনি গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়ন, উত্তর পানীয়জলের ব্যবস্থা, নিরক্ষরদের শিক্ষাদান, কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কাজে নিজেকে নিয়মিত করেন। তাঁকে সাহায্য করতেন ভাতিজী জীল খান। এখানে একটা কথা বলা ভালো যে Amnesty International এর সাবেক Secretary General. আইরিন খান এই পরিবারের সন্তান। আসদ্দর আলী সাহেব এবং গজনফর আলী সাহেব সম্পত্তি Wakf করে দেন। বর্তমান Wakf estate এর মুতাওয়াললী হলেন ডাক্তার আসদ্দর আলী খানের প্রপুত্র বাবর আলী খান।

গজনফর আলী খান সাহেব ১৯৬৫ সালে সিলেট সরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন ৮৬ বছর বয়সে। এবং হজরত শাহজালাল দরগা শরীফে তাঁহাকে দাফন করা হয়। প্রার্থনা করি আল্লাহতালা উনাদেরে বেহেশত নসিব করুন।

সিএম তোফায়েল সামী
ঢাকা
পূনঃ ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন।

কৃতজ্ঞতাঃ এম. এ. করিম চৌধুরী, ফারসানা তাহমিন লিপি (খান পরিবারের বধূ)।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *