শায়েস্তাগঞ্জের পশু হাসপাতালটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত !
এম হায়দার চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে :: শতাধিক বছর পূর্বে (১৯০৩ সালে) ব্রিটিশ শাসনামলে প্রায় ২৮ শতাংশ ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ পশুহাসপাতালটি আজও সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরী ঘরটি এতটাই জরাজীর্ণ যে দেখলে মনে হয় এখনি হেলে পড়বে মাটিতে। এ পশু হাসপাতালটি এখন পশুর জন্যও নিরাপদ নয়।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার তালুকহরাই এলাকায় ঝোঁপঝাড় বেষ্টিত একটি অনিরাপদ স্থানে অবস্থিত শায়েস্তাগঞ্জ পশুহাসপাতালটি। সরজমিনে দেখা যায় পশু হাসপাতাল নামক টিনের ঘরটির চারিদিকে ময়লা আবর্জনা থাকার পাশাপাশি কচু জাতীয় উদ্ভিদ ও লতাগুল্মে পরিপূর্ণ রয়েছে। কোন ভাবেই বুঝার উপায় নেই যে, এটি একটি হাসপাতাল বা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান। এ হাসপাতাল নামক টিনের ঘরটির কোন প্রকার তদারকি না থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ কারনে পার্শ্ববর্তী বাজারের লোকজন এ স্থানটিকে ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করছে। আশপাশের লোকজন বিশেষ করে বাজারের কাঁচামালের আবর্জনা ফেলে এটিকে ডাস্টবিনে পরিণত করেছে। এ স্থানটির পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় এখান থেকে নির্গত দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিতে হয়।
সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, একসময় এ হাসপাতাল থেকে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকাসহ আশপাশের প্রায় ১০টি চা বাগানের পশু-পাখির চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হতো। এরশাদ সরকারের আমলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ জনিত কারনে হাসপাতালটির এ করুণ পরিণতি হয়েছে। জানা গেছে, এ হাসপাতালে একজন এসডিএলও, দুজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও একজন ভেটেরিনারি সহকারী পশু চিকিৎসাসেবা প্রদান করতেন। প্রথাগত বদলীর আদেশে একে একে এ হাসপাতাল থেকে সবাই অন্যত্র চলে যান। এর পরও একজন ভেটেরিনারী সহকারীর মাধ্যমে শুধু কৃত্রিম পশুপ্রজনন প্রক্রিয়াটি চালু ছিল। এ ভেটেরিনারী সহকারীও চলে গেলে পশু হাসপাতালটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জ একটি উপজেলা ও কৃষি প্রধান অঞ্চল। সে হিসেবে অনেকেই ব্যক্তিগত গবাদি পশু পালন করেন আবার অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু লালন-পালন করছেন। এলাকায় বেশ কয়েকটি গরুর খামার ও মুরগীর ফার্ম রয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জে পশু-পাখি চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে ওইসব মালিকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে বলেন, তিনি এখানে যোগদান করেই ভাড়া ভবন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। তার সাথে সহকর্মী হিসেবে একজন উপ-সহকারী ডাক্তার মো: বদিউজ্জামান রয়েছেন। তারা কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন প্রকার ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামুল্যে ওষুধ দিচ্ছেন। সুরঞ্জিত হালদার নামে একজন ডা. রমাপদ দেকে সহায়তা করে থাকেন। তিনি প্রতি মাসে ৪০/৫০ টি কৃত্রিম প্রজনন সেবা বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসেন। ডা. রমাপদ দে আরও জানান, হাসপাতালের নতুন কার্যালয়ের জন্য হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন, এখনো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ তালুকদার ইকবাল বলেন, আমি এবিষয়ে অবগত রয়েছি। শায়েস্তাগঞ্জ একটি নতুন উপজেলা, তাই নতুন হাসপাতাল হতে একটু সময় লাগবে। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন ডা. রমাপদ দে। তার সেবা প্রদানের জন্য বসার কোন স্থান না থাকায় পৌরসভার লেঞ্জাপাড়ায় একটি ভবন ভাড়া নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।





