বন্য শুকরের উপদ্রবে দিশেহারা শায়েস্তাগঞ্জের কৃষকরা !
এম হায়দার চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং এলাকার কৃষকরা বন্য শুকরের উপদ্রবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন । কয়েকমাস যাবৎ একের পর এক জমির পাকা ধান বিনষ্ট করছে শুকরের পাল। এদের হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য কৃষকদের বিরামহীন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাতের বেলা প্রতিটি জমিতে মশাল জ্বালিয়ে রাখেন তারা। কারন শুকররা আগুন দেখলে ভয় পায়।
তথ্যে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই, পুরাসুন্দা ও লাদিয়া গ্রামে এদের উৎপাত সবচেয়ে বেশি। এরফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী। রাত নেমে এলেই পাহাড় থেকে খাদ্যের সন্ধানে দল বেঁধে লোকালয়ে হানা দেয় এরা। কখনো ধান ক্ষেতে এসে হানা দেয় এবং জমির ফসল নষ্ট করে ফেলে।
এদিকে কৃষকদের শেষ সম্বল পাকা ধান হারিয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এর আগে শুকররা কৃষিজমির নানারকম ফসলাদি সাবাড় করছিল। বন্য শুকরের ভয়ে শিশুরা রাতে ঘর থেকে বের হতে পারে না। অনেক গ্রামে ঢুকে খাদ্য না পেলে রাতের আঁধারে মানুষের ঘরে প্রবেশের চেষ্টাও করে থাকে।
উপজেলার সুরাবই গ্রামের আব্দুর রহিম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বন্য শুকর খুবই হিংস্র প্রাণী। এদের থেকে বাঁচার পথ দেখছি না।’একই গ্রামের মো. তওহিদ মিয়া বলেন, ‘গ্রামের পাশেই পাহাড় থাকায় এদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এদের জন্য আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি আমরা। এরইমধ্যে আমার দুই একর পাকা ধান নষ্ট করেছে। এমনকি ধানের খড়ও অবশিষ্ঠ রেখে যায়নি শুকরে পাল। একই গ্রামের হেলিম মিয়া বলেন, ‘আমি বর্গা জমি চাষ করি। আমার দেড় একর পাকা ধান খেয়ে ফেলেছে। আমি এখন কী খেয়ে বেঁচে থাকব? সুতাং অঞ্চলে কমপক্ষে ৫০ একর পাকা ধানের ক্ষতি করেছে শুকরের পাল। এভাবে চলতে থাকলে ওই এলাকার মানুষকে না খেয়ে থাকবে।
হবিগঞ্জ জেলা বন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা বন কর্মকর্তা ( ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, হয়তো বনে খাদ্য কমে গেছে, তাই তারা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এদেরকে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিতে হবে। সরকার থেকে আবার এদেরকে রক্ষা করার জন্য নির্দেশও রয়েছে। তবুও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য তিনি এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন বলে জানান।





