প্রতারক আদম বেপারি আমিনকে আটক করেছে পুলিশ।
সিলেট প্রতিনিধি :
কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নাম করে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ হক সুপার মার্কেটের আমিন রহমান ট্রাভেলসের সত্ত্বাধিকারী আমিন রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ মার্চ) বেলা ২টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানাপুলিশের একটি দল।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসএমপি’র কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ। তিনি বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এর আগের দিনই আমরা তার বিষয়ে খবর পাই এবং কাজ শুরু করে দেই। মামলা দায়েরের পর তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে আমরা গোপন সূত্রে খবর পাই। এ খবরের ভিত্তিতে আমার সকল এয়ারপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ইনফর্ম করে রাখি। তাই তিনি ঢাকা এয়ারপোর্ট হয়ে দেশের বাইরে যেতে পারেননি। যেতে না পেরে আমিন সিলেটে ফিরে আসছিলেন। তাকে আমরা ফলো করছিলাম। পরে বেলা ২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করি। তাকে এখন আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। প্রয়োজনে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবো আদালতে।
এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আমিন রহমান ট্রাভেলসের মালিক আমিনুর রহমান, তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে আসামী করে এসএমপির কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম। মামলা নং-৭০ (২৭/০২/২০২২)। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিজগাওয়ে।
জানা যায়, অন্তত ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন আমিনুর রহমান। এ অভিযোগে আমিন ও তার দুই ভাইকে আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার ও প্রতারণা মামলা দায়ের করেন প্রতারিতরা। তাদের পক্ষ থেকে ফখরুল ইসলাম নামের একজন বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
ভূক্তভোগীরা জানান, ৯০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় ‘আমিন রহমান ট্রাভেলস’। ওই বিজ্ঞাপন দেখে তারা নগরীর জিন্দাবাজার হক সুপার মার্কেটস্থ ট্রাভেলসে যোগাযোগ করেন। তখন ট্রাভেলসের মালিক আমিনুর রহমান জানান, রোমানিয়ায় যেতে হলে ৬ লাখ টাকা লাগবে। প্রথমে বুকিং মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ও ওয়ার্কপারমিট আসার পর দিতে হবে আরও ৫০ হাজার টাকা। বাকি ৫ লাখ দিতে হবে ভিসা হওয়ার পর। আমিনের কথামতো রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহীরা তার সাথে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করে টাকা দেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রোমানিয়ায় ফ্লাইট দেয়া শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন বিকেল ৪টা থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন তিনি। পরে অনেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের পাসপোর্টে লাগানো ভিসাও ছিল জাল। এছাড়া অনেককে ভিসা হওয়ার কথা বললেও তাদেরকে পাসপোর্ট ফেরত দেননি আমিন।





