দীর্ঘ ৩১ ঘণ্টা পর আলোর মুখ দেখলো সিলেটবাসী।
বিদ্যুৎহীন সিলেট মহানগরীর জনজীবনে অবশেষে জ্বলে উঠতে শুরু করেছে ‘বিদ্যুতের আলো’। অন্ধকারে নিমজ্জিত ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে এখনো অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ বিভাগের ৪ শতাধিক কর্মী। তাদের নির্ঘুম চেষ্টায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সিলেট।
৩১ ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তীব্র পানি সংকটে নাকাল নাগরিক জীবনে নেমে এসেছে স্বস্তি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন দাবি করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি।
গত মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিলেটের আখালিয়ার কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগার পর থেকে সিলেটজুড়ে নেমে আসে বিদ্যুৎ বিপর্যয়। আগুন লাগার দুই ঘণ্টা পর বেলা পৌনে একটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগে প্রায় ৩১ ঘণ্টা। গতকাল বুধবার প্রথমে নগরীর আম্বরখানা ও টিলাগড় এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে নগরীর জিন্দাবাজারসহ আশপাশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয় সুনামগঞ্জে।
প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন জানান, সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটের দিকে প্রথমে আম্বরখানা ও টিলাগড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পরে জিন্দাবাজারসহ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। দ্রুততম সময়ে বাকি সকল এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও ওই এলাকার ফিডারগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করে এগুলো সচল করা হয়েছে।
খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন দাবি করেন, মঙ্গলবার রাত থেকে প্রায় ৪০০ কর্মী কাজ করছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে মেরামত করা কিছু ফিডার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। যত দ্রুত সম্ভব বাকি এলাকাগুলো বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (জনসংযোগ) সাইফুল হাসান চৌধুরী জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নগরীর এক চতুর্থাংশ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বাকি এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, টানা ৩১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরে পানি সরবরাহ করতে পারেনি। এর ফলে নগরীর বাসা-বাড়িতে দেখা দেয় পানির তীব্র সংকট। প্রয়োজন মেটাতে লোকজন বালতি, ড্রাম, কলসি নিয়ে ছুটেন পানির সন্ধানে। যেখানে টিউবওয়েল আছে; সেখানেই ভিড় করছেন মানুষ।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি সংকটে ভোগান্তির চিত্র। এ সংকট মেটাতে শিশু, কিশোর বৃদ্ধ, নারী থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষ অন্যত্র ছুটছেন পানির জন্য। বিশেষ করে পাড়ার ভিতরে যেসব বাসায় জেনারেটর আছে ; সে বাসায় পানির জন্য অনেককে ভিড় করতে দেখা যায়। আবার পাড়ার ভিতরে কোথাও টিউবওয়েল থাকলে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। বাদ পড়েনি পুকুরও। অন্যদিকে, নগরীর সুরমার তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের পানির জন্য অন্যতম অবলম্বন ছিলো সুরমা নদী। অনেকে ভ্যানগাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছেন ঘরে।
এদিকে, পানির এ সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু নিম্ন আয়ের মানুষ নেমেছিলেন উপার্জনে। বাসায় বাসায় পানি পৌঁছে দিয়ে করছেন অর্থ উপার্জন।
আলোর উৎস হিসেবে মোমবাতি ও হারিকেনের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায়, নগরীর কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী সংকট তৈরী হয়।





