অবলা. …!
সৈয়দ মিনহাজুল ইসলাম (শিমুল):
সকাল ৭:৩০। প্রতিদিনের মতো ইসতিয়াক ব্যতি ব্যস্ত হয়ে অফিসে বেরুবার তোড়জোড় করছে। আর দেরি করলে ৯টার মধ্যে পৌঁছা যাবে না। লাবনী সেই সাত সকালেই বেরিয়ে গেছে ওদের একমাত্র গাড়িটি নিয়ে। বেচারি বাসে চড়তে অস্বস্থি বোধ করে, তাছাড়া অনেকটা পথ যেতে হয় ওকে, সেই খিলক্ষেত থেকে গাজীপুর। লাবনী গাজীপুরে একটি বে-সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়ায়। বছর দুয়েক আগে সহকারী অধ্যাপিকা হিসেবে পদন্নোতি পেয়েছে। ৩০শে পা দিতেই সহকারী অধ্যাপিকা, ব্যাপারটা খুব উপভোগ করে লাবনী, তাই আনন্দের অতিসজ্যে ৬ লাখ টাকা দিয়ে সেকেন্ড হ্যান্ড একটা গাড়ি কিনেই ফেললো। সেই থেকে অধ্যাপিকা মহদয়া গাড়ি করেই যাতায়াত করেন।
ইসতিয়াক বাসে করেই যাতায়াত করে। মাঝে মধ্যে অবশ্য উবার বা পাঠাও এর সাহায্য নেয় আবহাওয়া খারাপ থাকলে বা দেরি হয়ে গেলে। বাসে করে যেতে ওর খুব একটা খারাপ লাগে না। নানান ধরণের মানুষের সাথে মিশা যায়। বিচিত্র সব লোকজনের কথা বার্তা শুনে অনেক কিছু জানা যায়। ওর কাজ যেহেতু মানুষকে নিয়ে তাই অন্যদের কথা বার্তা আচার আচরণ দেখে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাগুলো বুঝার চেষ্ঠা করে।
ইসতিয়াক নামকরা একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিজনেস ম্যানেজার। চাকরী জীবনের গত দশ বছরে অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছে। কাজের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান সে। ওর সহকর্মীরা ঠাট্টা করে ওকে মিস্টার গ্রেবার বলে। অবশ্য একটা কারণও আছে এর পিছনে, কোন ব্যবসাহী গ্রাহক একবার ওর হাতে এসে পরলে লোন না নেওয়া পর্যন্ত আর নিস্তার নেই। এতো সুন্দর সাবলীল ভাবে ও বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করে যে গ্রাহকের প্রয়োজন না থাকলেও নিতে বাধ্য হয়। ওদের ধানমন্ডি শাখার ষ্টার এমপ্লয়ি বলা হয় ওকে। প্রায়ই হেড অফিস থেকে এটা ওটা উপহার আসে ওর জন্যে।
নাহ, আর দেরি করলে হবেনা, এখনি বেরুতে হবে। কালো জুতো জোড়া আবার কোথায় গেলো ? অফিসের কাজে অত্যন্ত গোছালো মানুষটি ঘরে অনেকটাই এলোমেলো ! বাসায় এসে একমাত্র ল্যাপটপটা ছাড়া বাকী জিনিসপত্র কোথায় ছুড়ে ফেলে ইসতিয়াক নিজেও তা জানে না ! মোজা পড়ে এদিক ওদিক খুঁজতে খুঁজতে
ইসতিয়াক হাক ছাড়লো – অবলা ? অবলা আমার কালো সু কোথায় ? দূর থেকে ভাঙা ভাঙা শব্দে উত্তর ভেসে এলো – আন তাছি মা মা ! অবলা, সদ্য কৈশোরে পা দেয়া এক কিশোরী। বছর চারেক আগে ইসতিয়াকের অফিসের এক পিয়ন ওদের গ্রামের বাড়ী থেকে একে এনে দিয়েছিলো ঘরের কাজে সাহায্য করার জন্যে। প্রথম প্রথম ওকে খুব অদ্ভুত মনে হতো ইসতিয়াকের, কেমন যেনো মেয়েটা ! কথা বলার সময় কখনো মুখ তুলে তাকায় না, মাথা নিচু করে কথা বলে। এমনিতে খুব কম কথা বলে, যাওয়া বা বলে তাও জড়িয়ে যা, মাঝে মধ্যে তোতলায়। কাজ না থাকলে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা । লাবনী বলছিলো একা একা নাকি কথাও বলে ! ওকে কখনোই টিভি দেখতে দেখা যায় না, জিজ্ঞেস করলে বলে – বাস্কের ভিতরের মানুষ দেখতে ভালা লাগে না। এই বয়সের মেয়েরা সাধারণত টিভি দেখার জন্যে মুখিয়ে থাকে, কিন্তু অবলা ফিরেও তাকায় না ! তবে একটা বিষয়ে ওরা খুবই খুশি, মেয়েটা কাজের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও যত্নবান। একবার কোন একটা কাজ ওকে বুঝিয়ে দিলে দ্বিতীয়বার আর বলতে হয়না। কোন কিছু ওকে করতে দিলে যতক্ষণনা সেটা শেষ হবে ততক্ষন পর্যন্ত লেগেই থাকে। এ বাসায় আসার পর পরই ওকে বলে দেয়া হয়েছিলো কাজ থেকে ফেরার পর ওদের জুতোগুলো যেনো ন্যাকড়া মুছে সুন্দর করে বারান্দায় সাজিয়ে রাখা হয়, দরজার সামনে জুতো রাখা লাবনী পছন্দ করে না বলেই এই ব্যবস্থা, গত চার বছরে এর অন্যথা হয়নি। শুধু ইসতিয়াকই মনে রাখতে পারেনা কোথায় কি আছে। এই যে মামা, আপ নের চু। অবলা সু কে চু বলে, তাতে অবশ্য কিছু যায় আসে না। ইসতিয়াক তাড়াতাড়ি পায়ে সু গলিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে উঠে দাঁড়ালো। দরজা খুলে বেরুতে যাবে এমন সময় অবলা ডেকে উঠলো – মা মা, আপ নের টি ফিন ? ইসতিয়াক হাত বাড়িয়ে লাঞ্চ বক্সটি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
মধ্যে দুপুর। ঘরের সব কাজ সেরে অবলা বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। ডানে বায়ে একবার তাকালো, তারপর দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। এভাবে কতক্ষন ছিলো ঠিক জানা নেই, হঠাৎ সংবিৎ ফিরে পেলো ডানা ঝাপটানোর আওয়াজে। বারান্দার কার্নিশে একটা কাক এসে বসেছে। কাকটার দিকে তাকিয়ে অবলা মিষ্টি করে একটু হাসলো, তারপর বলে উঠলো – কিরে আইজকা যে এতো দেরি করলি ? কাকটি কা কা করে উঠলো। সাধারণের কানে এটা শুধু একটি কাকের কর্কশ কা কা হলেও অবলা এর অর্থ বুঝে। আরো অদ্ভুত বিষয় হলো ও যখন এই কাকের সাথে কথা বলে তখন ওর মুখের জড়তা বা তোতলামো একেবারেই থাকেনা ! স্বাভাবিক ও সাবলীল ভাষায় কথা বলে যায়। অবলা কাকটির দিকে তাকিয়ে বললো – ও ! ছাওডির খাওন খুঁজতে দেরি হইছে ? তা কি খাওয়াইলি আজকে ? কাকটি আবারো কা কা করে উঠলো। অবলা বললো – মুরগির নাড়ি ভুড়ি, পাইলি কই ? আইজকাইল তো মাইনষে কিছুই ফালায় না। কাকটি তার মতো উত্তর দিলো। অবলা বললো – চুরি করছত ? তগো আর দোষ কি ? আগে মাইনষে যেই গুলান ফালাইয়া দিতো ওই গুলান খাইয়া তরা আর রাস্তার কুত্তাডি বাঁচতো। এহনতো রাস্তার মাইনষে তগো খাওনে ভাগ বহায় ! গাছ গাছালি নাই, পোকা মাকড়ও শেষ, তরা খাবি কি ? কাকটা কেমন যেনো অস্থির হয়ে মাথা দোলাতে লাগলো। কি রে এমন করস কে ? কাকটি লাফাতে লাফাতে কার্ণিশের এক প্রান্ত থেকে ওপর প্রান্তে চলে গেলো। অবলা আবারো বললো – কি রে ! কি হইলো তোর? কাকটি কিছুক্ষন অবলার দিকে চাইলো, তারপর এক নাগাড়ে কা কা করে চললো। অবলার ভ্রুদুটি সংকুচিত হয়ে এলো। মুখটার মধ্যে একটু একটু করে ভয়ের ছায়া নেমে আসতে লাগলো। তারপর অস্ফুস্ট স্বরে গুঙিয়ে উঠলো অবলা – কি কস ? হায় হায় !
আজ ছুটির দিন, শুক্রবার। ইসতিয়াক ও লাবনী দুজনেই বাসায়। সাধারণত ছুটির দিনটা ওরা বাসায় এক সাথেই কাটায়। লাবনী ওর রান্নার যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলি চালায় ছুটির দিনে আর সে সব খেয়ে ইসতিয়াককে ভূয়সী প্রশংসা করতে হয়। বিকেলে সোসাইটির কম্পাউন্ডে হাটতে বেরোয় দুজনে। মাঝে মধ্যে অবশ্য বাইরেও যায় ওরা, বিশেষ করে যদি কোথাও নিমতন্ন থাকে। এই যেমন আজ বিকেলে ওদের একটি নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতে হবে এক সহকর্মীর বাসায়। বিবাহ বার্ষিকীতে যোগ দিতেই এখন তৈরী হতে ব্যস্ত ওরা দুজন। ইসতিয়াক পায়ে ট্রেইনার্স গলাতে গলাতে জিজ্ঞেস করলো – কই ! তোমার হলো ? বেডরুম থেকে লাবনী উত্তর দিলো – এইতো শেষ। ইসতিয়াক আবার চেঁচালো – গাড়ীর চাবি আর আমার ফোনটা নিয়ে এসো। লাবনী উত্তর দিলো – আচ্ছা। শুক্রবারে ওদের ড্রাইভারের কর্ম বিরতি থাকে। বেরুনোর প্রয়োজন পরলে ইসতিয়াক নিজেই ড্রাইভ করে। মিনিট পাঁচেক পর লাবনী বেড রুম থেকে বেরিয়ে এসে বললো – চলো, আমি তৈরী। ইসতিয়াক বললো – হে চলো। চাবি আর ফোনটা দাও। লাবনী বললো – এই যা ! দাড়াও আমি এক্ষনি নিয়ে আসছি বলে লাবনী বেড রুমের দিকে পা বাড়ালো। কিছুক্ষন পর লাবনী জিজ্ঞেস করলো – আচ্ছা, চাবি আর ফোন কোথায় রেখেছিলে ? ইসতিয়াক বেড রুমের দিকে এগিয়ে গেলো – কি হলো ?
লাবনী বললো – কিছুইতো খুঁজে পাচ্ছিনা ? কোথায় রেখেছিলে ? ইসতিয়াক বিরক্ত হয়ে বললো – যেখানে সব সময় থাকে, বেড সাইড টেবিলে। লাবনী তখনো খুঁজে চলেছে – পাচ্ছিনা তো ? ইসতিয়াক বললো – কি বলছো ? গাড়ীর চাবিতো প্রথম ড্রয়ারেই থাকে। আর ফোনতো টেবিলের উপরেই ছিলো ? লাবনী বললো – এই, একটু অন্য ঘরগুলিতে খুঁজে দেখোনা ? আমি অবলাকে জিজ্ঞেস করে দেখি কিছু জানে কি না ? ইসতিয়াক অন্য ঘরগুলি খুঁজতে গেলো আর লাবনী গেলো অবলাকে জিজ্ঞেস করতে। লাবনী প্রথমেই গেলো বারান্দায় কারণ অবলা সচরাচর এখানেই অবসর কাটায়। বারান্দায় না পেয়ে ডাকতে ডাকতে ওর শোবার ঘরের দিকে গেলো। গিয়ে দেখে অবলা কাঁথা মুরি দিয়ে শুয়ে কাঁপছে ! লাবনী চমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো – কি রে ? এই গরমে কাঁথা নিয়ে শুয়ে আছিস কেনো ? অবলা কিছু বললো না। ওর ঠোট দুটি কাঁপছে আর চোখ দিয়ে পানি গড়াচ্ছে। লাবনী উবু হয়ে ওর কপালে হাত দিলো – ও মা ! গা তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে ! ওদিকে ইসতিয়াক চেঁচিয়ে উঠলো – কি হলো ? পেলে ? লাবনী ছুটে বেরিয়ে গেলো। ইসতিয়াকের সামনে গিয়ে বললো – বিপদ হয়ে গেছে ! অবলা জ্বরে কাঁপছে। ইসতিয়াক বললো – চলো তো দেখি।
ইসতিয়াক আশে পাশের ফার্মেসী ঘুরে কোন ডাক্তার না পেয়ে অগত্যা কিছু এন্টিবায়টিক আর প্যারাসিটামল নিয়ে বাসায় ফিরলো। লাবনীকে বললো – ছুটির দিন ডাক্তার পেলাম না। কিছু ঔষধ নিয়ে এসেছি, ওর মুখে কিছু দিয়ে একটা করে ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়ো। লাবনী বললো আচ্ছা। ইসতিয়াক জানতে চাইলো – ফোনটা পেয়েছিলে ? মুনসুরকে অন্তত জানিয়ে দিতাম যে আমরা আসতে পারছি না। লাবনী জানালো যে ফোন চাবি কোনটাই এখনো পাওয়া যায়নি।
ইসতিয়াক কফির মগ হাতে রাতের সংবাদ দেখতে বসলো। বাসায় থাকলে ও রাতের এই সংবাদটা কখনো মিস করে না। ৩০ মিনিটে দেশ বিদেশ সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যায়। প্রথম ৫ মিনিট দেশীয় রাজনৈতিক খবর পরিবেশনের পরই একটা ব্রেকিং নিউজ উঠে এলো। পাঠিকা বললেন – এই মাত্র আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ঢাকার উত্তর শাহজাহানপুরে একটি বহুতল আবাসিক বিল্ডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা থেকে মনে হচ্ছে তিন তলা থেকে সৃষ্টি হয়ে আগুনের লেলিহান শিখা আট তলা অব্দি পৌঁছেছে। হতা হতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ইসতিয়াকের ভ্রুদুটি সংকুচিত হয়ে এলো। মনসুরও তো ওই এলাকায় থাকে। একটা ফোন করতে পারলে জানা যেতো। ধ্যাৎ ! মোবাইলটাও এই সময় হারালো ! টিভিতে আবার মননিবেশ করলো ইসতিয়াক যদি বিস্তারিত কিছু জানা যায়। হঠাৎ পাশ থেকে একটা ডাক ভেসে এলো – মা মা ! ইসতিয়াক মুখ না ফিরিয়েই বললো – হু ? আবার ডাকলো – মা মা ? ইসতিয়াক এবার মুখ ফিরিয়ে দেখলো অবলা দাঁড়িয়ে আছে, বললো – কি রে ? তুই আবার উঠে এলি কেনো ? আরো কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো তার আগেই অবলা ওর হাত দুটি সামনে বাড়িয়ে ধরলো। ইসতিয়াক অবাক হয়ে দেখলো ওর এক হাতে চাবি আর অন্য হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। ইসতিয়াক উত্তেজিত কণ্ঠে জানতে চাইলো – কোথায় পেলি ? অবলা কিছু না বলে শুধু মিটি মিটি হাসলো। ইসতিয়াক ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো প্রায় ১৫ টা মিস কল, এর মধ্যে প্রায় দশটাই হচ্ছে রবিনের। রবিন ওর অধীনস্ত সহকর্মী। ফোনটা সাইলেন্ট থাকায় কোন রিং হয়নি। ইসতিয়াক রবিনকে ফোন দিলো। এক রিং হতেই রবিন কলটা ধরে উত্তেজিত হয়ে বললো – ইসতিয়াক ভাই ! আপনারা ঠিক আছেনতো ? ইসতিয়াক বললো – কেন ? আমাদের কি হবে ? রবিন বললো – আপনি খবর পাননি ? মনসুর ভাইদের পুরো বিল্ডিং আগুনে পুড়ে গেছে। আপনাদেরতো আজকে মনসুর ভাইয়ের বাসায় দাওয়াত ছিলো, তাই বার বার ফোন দিচ্ছিলাম। ইসতিয়াকের মুখ রক্তশূন্য হয়ে এলো – কি বলছো এসব ? মনসুর ? রবিন বললো – আগুনটা উনাদের ফ্লাট থেকেই লেগেছিলো। এখন পর্যন্ত ছয়টা লাশ উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু সনাক্ত করা যায় নি ? ইসতিয়াক ফোনটা কেটে দিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিলো। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে চাইলো যেখানে একটু আগে অবলা দাঁড়িয়ে ছিলো। টিভিতে তখনো প্রচার হচ্ছে : এই মাত্র আরো দুটি লাশ উদ্ধার করেছে দমকল বাহিনী ……!





