#রাজনীতি

শামীম ওসমানের প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। চলছে অভিযোগ, কাদা ছোড়াছুড়ি। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার সরকারি দলের একাংশের সমর্থন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তৈমুর আলম খন্দকার গডফাদার শামীম ওসমানের প্রার্থী। অন্যদিকে তৈমুর আলম অভিযোগ করেন, আইভী সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে নির্বাচনী মাঠে সভা-সমাবেশ করিয়ে নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করছেন। এভাবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়েই চলছে নৌকা ও হাতির প্রচারণা।

সেলিনা হায়াৎ আইভী গতকাল সকাল থেকে সিটি করপোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের চৌড়াপাড়া এসিআই ফ্লাওয়ার মিলের মোড় থেকে প্রচারণা শুরু করেন। বিকালে তিনি ২৩ নং ওয়ার্ডেও প্রচারণা চালান।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তৈমুর আলম যে গডফাদার শামীম ওসমানের প্রার্থী তা এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, বৃহস্পতিবার বন্দরে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার প্রচারণা চালিয়েছেন। ওই প্রচারণায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অনুগত চারজন চেয়ারম্যান যোগ দিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয় নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার গডফাদার শামীম ওসমানের প্রার্থী। তৈমুর আলম সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের প্রার্থী। তৈমুর আলম খন্দকার জনগণের প্রার্থী না। সে বিএনপিরও প্রার্থী না।

আইভী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সবাই আমার সঙ্গে আছেন। প্রত্যেক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন। একমাত্র সে (শামীম ওসমান) হয়তো বাইরে গিয়ে তার লোকজনকে প্রোভাইড (ইন্ধন) করছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা (হাইকমান্ড) তৈমুর আলমের প্রচারণায় কারা কারা এসেছে সব দেখেছেন। পত্রপত্রিকায় সব নিউজ এসেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা সব দেখছেন। আমি একটি কথা আপনাদের বলতে চাই, আমি নির্বাচন করি জনগণের শক্তি নিয়ে। জনতাই আমার শক্তি। দল (আওয়ামী লীগ) আমার মনোবল। সব কিছু মিলে আমি নির্বাচন করছি। গডফাদারের দিকে তাকিয়ে আমি নির্বাচন করছি না।

অন্যদিকে তৈমুর আলম খন্দকার সিটি করপোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি মধ্যপাড়া, পশ্চিমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান। এ সময় তিন গণমাধ্যমে বলেন, হাতি মার্কার পক্ষে সর্বস্তরের জনগণ আজ নির্বাচনে মাঠে নেমে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি নারায়ণগঞ্জের ভোটার হতেন তবে আমি তার কাছেও ভোট চাইতে যেতাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি আমাকে ভোট দিতেন। গত ৫০ বছরের স্বচ্ছ কর্মকাণ্ড ও গণমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভোট দিতেন। মানুষ যখন একটা প্রার্থী খুঁজে বেড়াচ্ছিল তখন গণমানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে আমি প্রার্থী হই।

আইভীর অভিযোগের জবাবে তৈমুর আলম বলেন, আমি শামীম ওসমানের পায়ে ভর করে চলি না। আমি যখন নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করি শামীম ওসমান তখন ছাত্র। আমি নারায়ণগঞ্জের মাটি ও মানুষের পক্ষে, রিকশা শ্রমিক, ঠেলাগাড়িসহ সব শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে কাজ করেছি। আমি তৈমুর আলম খন্দকার জনগণের প্রার্থী। আমি নির্দিষ্ট কোনো ভাই কিংবা বোনের প্রার্থী না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *