#পাঠক সমাচার

ব্রিটেন প্রবাসীদের সাথে কেন এই অন্যায় আচরণ ? —- সৈয়দ গোলাম নবী

প্রত্যেক মাসে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সরকারের রিজার্ভের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করে যাচ্ছে আর এই রিজার্ভের টাকাটা আসছে পরিবার পরিজন ছেড়ে হাড় ভাঙা কস্ট করে খেয়ে না খেয়ে প্রবাসের বিভিন্ন দেশে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের অক্লান্ত পরিশ্রম বদৌলতে !

আর এই বিদেশী টাকার সব থেকে বড় অংশটা আসে ইংল্যান্ড থেকে যা সর্বজন স্বীকৃত ।

দেশে যখন দুর্যোগ মহামারী বন্যা হয় তখন সরকার সহ সবার দাবী আর আহ্বান থাকে ইংল্যান্ড প্রবাসীদের প্রতি সাহায্য চাই, সাহায্য চাই কারণ পাউন্ডের দাম অন্য বিদেশী মুদ্রা থেকে সবচেয়ে বেশি। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর সারা পৃথিবীর মধ্যে ইংল্যান্ড প্রবাসীরাই আক্রান্ত এবং আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সব থেকে বেশি ।

এক বছর উপর হয়ে গেল অনেকর এখনও কোন চাকরি নেই আয় রোজগারের পথ বন্ধ । বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির জন্য ইংল্যান্ডের নতুন ধরনের কভিড সংক্রমণ দায়ি এই অজুহাত দেখিয়ে সম্পুর্ণ ব্যবসায়ীক মনোভাব নিয়ে ইংল্যান্ড প্রবাসী যারা অনেকেই পারিবারিক বিশেষ কারণে দেশে যাচ্ছেন তাদেরকে জোর জবরদস্তির সাথে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিনটিনের নামে ঢাকা এবং সিলেটে বিভিন্ন হোটেলে সাত থেকে দশ দিন থাকতে বাধ্য করছেন।

অথচ এদের সবাই ইংল্যান্ড থেকে যাবার আগে কভিড টেস্ট করে সত্যিকারের নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে যাচ্ছেন পয়সা দিয়ে দিয়ে কিনে দুই নাম্বার সার্টিফিকেট নিয়ে নয় ! উদ্দেশ্য একটাই এই সপ্তাহ দশ দিনে এই সকল ইংল্যান্ড প্রবাসীদের পকেটে যা আছে সব সাফাই করে দেশের রিজার্ভকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবার
সারা জীবন এইসব ইংল্যান্ড প্রবাসীরা যারা দেশের জন্য সব কিছু দিয়েই গেলেন তাদেরকে এই মহামারীর জন্য দায়ী করে সর্বস্ব লুটে নেওয়া। অথচ, প্রতিদিন খবরের কাগজে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ রাখলেই দেখা যায় বাংলাদেশের সর্বত্রই লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম মিটিং মিছিল সমাবেশ ওয়াজ মাহফিল পূজা সবকিছুই চলছে সমান তালে। কেউই মানছেন না কোন বিধিনিষেধ
করোনা ভাইরাস কি অনেকেই তাও জানেন না ইংল্যান্ডের করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে । অনেকটাই, এখন পর্যন্ত কয়জন ইংল্যান্ড প্রবাসী দেশে করোনা পজিটিভ হয়েছেন তারও কোন তথ্য নেই তবে কেন এই অন্যায় আচরণ?

সিলেট বিভাগ থেকে অনেক বড় বড় মন্ত্রীরা সরকারে আছেন । কিন্তু, দেখলে মনে হয় এই সব ইংল্যান্ড প্রবাসী যাদের বেশিরভাগই সিলেট বিভাগ থেকে তাদেরকে দেখার কেউই নেই ! নেতা-নেত্রীরা ইংল্যান্ড আসলে সংবর্ধনা আর সালামী নিতে ব্যস্ত থাকেন, আর যখন এই প্রবাসীরা চাপে থাকেন তখন তাদের দেখার কেউ থাকে না ।

পরিশেষে, ব্রিটেন প্রবাসীদের প্রতি এই বিমাতা সুলভ   আচরণ  নিরসনে যথাযত কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি ।

লেখক – সৈয়দ গোলাম নবী টিপন ( ইংল্যান্ড প্রবাসী)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *