অবশেষে জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক।
গত কয়েক মাস ধরে এফডিসিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এতটা আলোচনা, বিতর্ক ও সমালোচনা এর আগে শিল্পীদের কোনো নির্বাচন নিয়েই হয়নি। বিশেষ করে এই সময়ে সব থেকে বেশি উচ্চারিত নাম হলো জায়েদ খান ও নিপুণ আক্তার। কারণ নির্বাচন ২৮শে জানুয়ারি শেষ হলেও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে তাদের লড়াই নির্বাচনের মাঠ থেকে গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কয়েক দফায় শুনানি হয়েছে এই সময়ে। কোনো কোনো সময় দেখা গেছে জায়েদের পাল্লা ভারী, আবার কোনো সময় নিপুণের। এমনকি শপথ নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারেও বসেছিলেন নিপুণ। সেখানে অফিসও করেছেন।
তবে ২রা মার্চ কোর্টের রায়ে পাল্টে গেল সব হিসাব-নিকাশ। ভোটে জেতা জায়েদ খান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে আইনি লড়াইয়ে হাইকোর্টের রায় পান এদিন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনী আপিল বোর্ড কর্তৃক নিপুণ আক্তারকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা ও জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রায় দেন। এই রায়ের ফলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ ভোটে জেতা জায়েদ খানেরই রইলো।
সুচরিতা, অরুণা বিশ্বাস, ডিপজল, জয় চৌধুরীকে নিয়ে শুক্রবার বিকালেই এফডিসিতে শপথ নিলেন। আর শপথ পাঠ করালেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। শপথ পড়ানোর আগে মনে করিয়ে দিলেন, কোর্টের সার্টিফাইড কপি দেখিয়েছেন জায়েদ। আর এ কারণেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শপথ পড়াচ্ছেন তিনি। শপথ পাঠের পর ইলিয়াস কাঞ্চন, জায়েদ ও নির্বাচিত কিছু সদস্য প্রথমদিনের সভায়ও অংশ নেন। জায়েদ খান বলেন, ভোটে জেতার পরও আমাকে কোর্টে দৌড়াতে হবে ভাবিনি। তবে সেটা করতে হয়েছে। এখন আসলে পেছনের বিষয় নিয়ে ভাবতে চাই না। আমি স্বস্তিতে আছি। এখন কেবল শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি, আমি সাধারণ সম্পাদক। আমরা আমাদের অন্য পদে নির্বাচিত সবাইকে নিয়ে এসসঙ্গে কাজ করে যেতে চাই। যে দুই বছর সময় আছে পুরো ধ্যান-জ্ঞান শিল্পীদের জন্য ব্যয় করতে চাই। তবে যেটা ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি চাইনি নিজে কোর্টে যেতে, কোনো শিল্পীকে কোর্টে নিতে। এ রকম যেন আর না হয় আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো।





