বারো পালর দিঘী — শুয়েব আহমেদ শওকতি
বারো পালর দিঘী
=শুয়েব আহমেদ শওকতিঃ
প্রাচীন ইতিহাসের পৌরানিক এক ঐতিহ্য
পঞ্চখন্ড ভূমণ্ডলে বৈচিত্র্যময় বিচিত্রে অপূর্ব
বারো পালর দিঘী নামে ইতিহাস খ্যাত
ঐতিহ্যের নিদর্শনে এলাকায় সর্ব জ্ঞাত।
অতীতে ছিল নয়নাভিরাম প্ৰকৃতি সুরম্য
ঝুপ জঙ্গল বৃক্ষ তরুলতায় মনোরম ঔপম্য।
বর্তমান আধুনিক সৌন্দর্যে দৃষ্টি নন্দন অপরুপ
আধুনিকায়নে নান্দনিক জৌলুস আমেজে ভরপুর।
চারিদিকে টিলা ঘেরা সবুজের মেলা
মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সচ্ছ জলের খেলা।
পঞ্চখন্ডের ইতিহাস ঐতিহ্যের অমলিন নিদর্শন
বারো পালর দিঘী বিয়ানীবাজারের নান্দনিক আকর্ষণ ।
পঞ্চখন্ডের ইতিহাসে রবে অমলিন
ঐতিহাসিক ঐতিহ্য হবে না বিলিন।
ইতিহাসে বর্ণিত তার ইতিবৃত্ত
দিঘীর প্রারম্ভ স্থিতির অস্থিত্ব।
বারোপালের ইতিহাসে প্রাক্কালের ইতিকথা
পাল বংশীয় রাজার কির্তীর আদিপত্যতা।
পাল রাজাদের রাজত্বের দাম্ভিকতা সংশ্লিষ্ট
পাল বংশীয় আদিপত্যে বৃহত দিঘীর বৈশিষ্ট।
সপ্তম খৃষ্ঠাব্দে রাঢদেশ হতে এ অঞ্চলে এক পাল রাজার আগমন
প্রবল ক্ষমতাধর বীরবিক্রম রাজা করেন পদার্পন।
তখন এলাকা ছিল ঘন অরণ্য সংকুল অনাবাদি
রাজা মহীপাল এসে করেন বাসোপযোগি আবাদী।
মহীপালের বংশদ্ভোত দুঃসাহসী দুর্দান্ত রাজা কালিদাস পাল
পঞ্চখন্ডে পাল বংশের প্রবর্তক কালিদাস পাল।
তার উত্তরসূরী স্বগোত্রীয় রাজা বারাণসী পাল
কালিদাস বংশের চতুর্থ পুরুষ রাজা বারাণসী পাল।
বারাণসী রাজত্ব কালে পানি পানের অভাব মেটাতে করেন আয়োজন
এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সংকট লাঘবে জলাশয় ছিল প্রয়োজন ।
তার তাগীদে বিশালাকৃতি দিঘী করেন খনন
সেই থেকে এতদাঞ্চলে পেয়জলের সংকট করেন নিরসন।
বারাণসী পালের খননকৃত প্রকান্ড দিঘী করে পানির সংকোলান
শুকনো মৌষুমে ক্ষেতকৃষির পানি সংকট ও হয় সমাধান ।
বারাণসী নামানুসারে ছিল নাম নামকরণ
পরে বারাণসী থেকে বারো শব্দে হয় সংকোচন।
অবশেষে লোকমূখে বারাণসী পাল থেকে বারোপাল নামের উৎপত্তি
পঞ্চখন্ডের ইতিহাসে ঐতিহ্যবাহি নাম বারোপালর দিঘী ।
সেই হতে বারোপালের দিঘী নামে সংরক্ষিত
পঞ্চখন্ড বিয়ানীবাজারের ইতিহাসে সংকলিত।
প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত আকর্ষণে বিয়ানীবাজারে অবস্থান
বারোপালের দিঘী দর্শনার্থীর হৃদাকর্ষিক দর্শনীয় স্থান ।
বারোপালের দিঘী আমার শৈশব স্মৃতিতে অবিস্মরণীয়
যার অনেক স্মরনিয় অতীত বৈভব এখনো হৃদয়ে বরণীয় ।
প্রায় প্রত্যেহ করেছি অবাদ বিচরণ
এখনো মনের দর্পনে ভাসে স্মৃতিচারন।
হই হুল্লুরে উল্লাসিত আনন্দ ঘন মূহুর্ত
এখনো মনে দোলা দেয় শৈশবের চিত্র।
দিঘীর পাড়ে গাছ গাছালির ছায়ায়
কি মায়াবী আমেজে মাধুর মায়ায়।
তরুলতা নীল জলের সাথে মননান্দে
লম্পঝাম্প সাতার কাটা প্রফুলানন্দে।
আজও শৈশব স্মৃতি অম্লান
সেই পূর্বানুভূতি হবেনা ম্লান।
দিন দুপুরে বিশেষ করে বিকেলে ঘোরাফেরা
ছায়া তলে শীতল বায়ে আনমনে চলা।
মৃদুমন্দ বাতাসে বা দমকা হাওয়ায় বন্ধু বান্ধব মিলে
কখনো একা নিরব নিঝুম নির্জনে আপন মনে।
পাখির কুজনে সচ্ছ নীল সলিলে নীলিমার ছায়ে
মনের আনন্দে বিচরণ করেছি শীতল সতেজ বায়ে।
আজো বারোপালর দিঘীর স্মৃতিতে ভাস্মর
শৈশব কৈশোর স্মৃতিময় দিন গুল অবিনশ্বর।
পঞ্চখন্ডের ইতিহাস ঐতিহ্যে অনন্য নান্দনিক নন্দন
বারোপালর দিঘী বিয়ানীবাজারের দৃষ্টি নন্দন আকর্ষণ ।
বৃহত্তর পঞ্চখন্ডের ইতিহাস ঐতিহ্যের অক্ষুন্ন কির্তী
বিয়ানীবাজারের ঐতিহ্যেবাহি বারোপালর দিঘী।





